পাকিস্তানে উদ্বেগজনকভাবে দারিদ্র্য বেড়ে ২৮.৯ শতাংশ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২১ ফেব্রুয়ারি- সাত বছর পর পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার পুনরায় উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ২৮.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল শুক্রবার ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত সাত বছরে দারিদ্র্যের হার ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে দারিদ্র্য হ্রাস পায়, কিন্তু ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিস্থিতি উল্টো দিকে ঘুরে গেছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহরে দারিদ্র্যের হার ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭.৪ শতাংশে পৌঁছেছে, আর গ্রামে তা ২৮.২ শতাংশ থেকে ৩৬.২ শতাংশে উঠেছে।
দেশের চারটি প্রদেশেই দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পাঞ্জাবে হার ১৬.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.৩ শতাংশ, সিন্ধে ২৪.৫ শতাংশ থেকে ৩২.৬ শতাংশ, খাইবার পাখতুনখোয়ায় ২৮.৭ শতাংশ থেকে ৩৫.৩ শতাংশ, আর সবচেয়ে বেশি বেলুচিস্তানে ৪১.৮ শতাংশ থেকে ৪৭ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, অর্থনৈতিক বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈষম্যের হার ২৮.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাদেশিক উন্নয়ন বাজেট কেন্দ্রীয় সরকারের তুলনায় তিন গুণ বেশি হলেও দারিদ্র্য ও বৈষম্য এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনে নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, কোভিড-১৯ মহামারি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচিকে দায়ী করেছেন আহসান ইকবাল। রুপির অবমূল্যায়নের ফলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি আইএমএফ কর্মসূচিতে যাওয়া জরুরি বলে জানান, না হলে দেশ দেউলিয়া হয়ে যেত।
মন্ত্রী জানান, দারিদ্র্য ও বৈষম্য নিয়ন্ত্রণে আনতে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং নীতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশকে স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষতি কমাতে সঠিক নীতিমালা গ্রহণের বিকল্প নেই।