রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারি- শুল্ক বা ট্যারিফকে নিজের প্রিয় শব্দ বলে বহুবার উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে তার বাণিজ্যনীতিতে ধাক্কা লাগলেও অবস্থান বদলানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি। বরং উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি আরও জোরালো করেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে এটি ট্রাম্পের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার তিনি কংগ্রেসে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার আগে আরও শুল্ক বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, আদালতের রায়ের প্রেক্ষাপটে এটি রাজনৈতিক বার্তা। তবে সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় রিপাবলিকান দলের ভেতরেই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কঠোর শুল্ক নীতি ভোটারদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা ইতোমধ্যে বিষয়টি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছে। দলের সিনেটর অ্যান্ডি কিম জানিয়েছেন, পাল্টা শুল্কের কারণে নাগরিকদের যে বাড়তি খরচ হয়েছে তা ফেরত দেওয়ার জন্য আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট তার হাতে থাকা বিকল্প আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে শুল্ক নীতি বহাল রাখার পথ খুঁজবেন।
ট্রাম্পের অবস্থানের পেছনে দুটি কারণ দেখছেন বিশ্লেষকেরা। প্রথমত, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস করে আসছেন যে শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করবে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে বাণিজ্য ঘাটতি অপরিবর্তিত থাকা এবং উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান কমার তথ্য এলেও তার অবস্থানে পরিবর্তন আসেনি। দ্বিতীয়ত, শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকে তিনি প্রেসিডেন্সিয়াল কর্তৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখেন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুল্ক আরোপের অধিকার তার নিজেরই রয়েছে।
আধুনিক সময়ের অন্য প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ট্রাম্প শুল্ককে বহুমাত্রিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কখনো কূটনৈতিক চাপ, কখনো রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রতিক্রিয়া হিসেবেও ট্যারিফ আরোপ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো–এর প্রসঙ্গ সামনে আসে। নির্বাচনী তদন্তের সময় ব্রাজিলের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়। এমনকি সুইজারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট কারিন কেলার-সাটার–এর সঙ্গে কথোপকথন নিয়েও শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কথা তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
তবে আদালতের রায়ের ফলে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রয়োগে নতুন আইনি বাধা তৈরি হয়েছে। বিকল্প আইন ব্যবহার করলেও সেখানে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে আগের মতো সহজে ট্যারিফ বাড়ানো কঠিন হতে পারে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও পড়তে পারে। বিশেষ করে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকে দরকষাকষির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের হাতে আগের মতো শক্ত অবস্থান থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তবু ট্রাম্পের বক্তব্যে অনমনীয়তার সুর স্পষ্ট। বিদেশি দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, তাদের আনন্দ বেশিদিন টিকবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে নিজস্ব ভাবমূর্তি ধরে রাখতে হলেও ট্রাম্প শুল্ক নীতি থেকে সহজে সরে আসবেন না। তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও নির্বাচনী সমীকরণ তার এই অবস্থান কতদিন টিকিয়ে রাখবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সুত্রঃ সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au