আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- সদ্য বিদায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে কেন্দ্র করে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ও নীতিমালার প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, আর্থিক বিধি লঙ্ঘন ও স্বার্থের সংঘাতের একাধিক অভিযোগ তুলেছে। কাউন্সিলের দাবি, এই অভিযোগগুলো তদন্ত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত।
কাউন্সিলের পক্ষ থেকে গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে মোট সাতটি মূল অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিএফআইইউ তথ্যপাচারের অভিযোগ:
অভিযোগ অনুযায়ী, গভর্নর সচিবালয় থেকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-কে ফ্রিজকৃত ব্যাংক হিসাবের তথ্য নিয়মিত দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এসব স্পর্শকাতর তথ্য সংরক্ষণের জন্য গভর্নর অফিসে অনুমোদিত বিধান না থাকলেও তা গভর্নরের পরিবারের সদস্য এবং একান্ত সচিবের মাধ্যমে একটি চক্রের কাছে পাচার হচ্ছে। বিনিময়ে বন্ধ হিসাব সচল করার নামে অর্থ লেনদেনও হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়েছে।
বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয় ও চারটি গাড়ি ব্যবহার:
অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি ব্যয়সংকোচন নীতি এবং আট বছরের ক্রয়সীমা উপেক্ষা করে প্রায় দুই কোটি টাকার বিলাসবহুল ‘টয়োটা আলফার্ড’ গাড়ি কেনা হয়েছে। সাবেক গভর্নরের ব্যবহারের জন্য সচল গাড়ি থাকা সত্ত্বেও নতুন গাড়ি ক্রয়ে যথাযথ দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। পাশাপাশি, গভর্নরের চুক্তি অনুযায়ী দুটি গাড়ি ব্যবহারের অধিকার থাকলেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে চারটি গাড়ি রয়েছে এবং জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।
পিএসের ভাতা উত্তোলন:
গভর্নরের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা অফিসের গাড়ি ব্যবহার করেও মাসে ৫০ হাজার টাকা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা উত্তোলন করেছেন। এটি বিধিবহির্ভূত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্সে স্বার্থের সংঘাত:
গভর্নরের পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স দেওয়ার তাড়াহুড়ো করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনে একক গোষ্ঠীর মালিকানা সীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধও উপেক্ষা করা হয়েছে। তবে বোর্ড সভায় কর্মকর্তাদের আপত্তিতে বিষয়টি স্থগিত হয়।
মেডিক্যাল সুবিধা ও সিএসআর তহবিল ব্যবহারে অভিযোগ:
ব্যাংকের মেডিক্যাল সেন্টারে ওষুধ থাকলেও ‘নো-স্টক’ স্লিপের মাধ্যমে বাইরে থেকে ওষুধ কেনার নামে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে স্কুল ও ফাউন্ডেশনে অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নীতিমালা মানা হয়নি। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার কারণে এটি স্বার্থের সংঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা ও সুশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে কাউন্সিল উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে।
এই আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যেই বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আহসান এইচ মনসুরকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গভর্নর মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, তদারকি জোরদার এবং নীতিগত সংস্কারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ নজরদারি বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এতে কিছু কর্মকর্তা তার ‘স্বৈরাচার’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন এবং তাদের শোকজ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে আহসান এইচ মনসুরকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতায় আসার নয় দিনের মাথায় গভর্নর পদে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এই অভিযোগ ও পদ পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে আহসান এইচ মনসুরের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au