চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারি- নরসিংদীর সদর উপজেলায় ধর্ষণের বিচার চাওয়াকে কেন্দ্র করে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত কিশোরী ওই ইউনিয়নের একটি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত। তার বাবা স্থানীয় একটি টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক। স্ত্রী, এক ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে তিনি সেখানে বসবাস করতেন।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে ওই কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে ভাড়া বাসায় ফেরার পথে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ তার মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, এরপর তাকে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবারটি মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আহমদুল্লাহর শরণাপন্ন হয়। তবে তারা কোনো বিচার পায়নি বলে অভিযোগ। বরং মীমাংসার নামে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে বিচার চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নূরা ও তার সহযোগীরা। পরিস্থিতি খারাপ দেখে বুধবার রাতে কিশোরীকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে বের হন তার বাবা। রাত ৮টার দিকে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন তরুণ তাদের গতিরোধ করে। পরে তারা বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।
সারারাত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়রা বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেতে কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে মাধবদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই বলেন, “মেম্বার সাহেব বলছিলেন মীমাংসা করে দেবেন। পরে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেন। আমরা বলেছিলাম, ১ তারিখে চলে যাব। গতকাল রাতে আব্বা তাকে খালার বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে নূরা ও তার লোকজন আমার বোনকে তুলে নিয়ে যায়। সারারাত খুঁজেছি। সকালে শর্ষেখেতে তার লাশ পাই। আমরা মামলা করব। যারা আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই।”
ঘটনার পর অভিযুক্ত নূরাসহ তার সহযোগীরা গা ঢাকা দিয়েছে। কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের পর সাবেক ইউপি সদস্য আহমদুল্লাহকেও এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে বিচার চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি বলেন, “ধর্ষণের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এখন জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au