অস্ট্রেলিয়া

কুইন্সল্যান্ড পার্লামেন্টে ঘৃণাত্মক বক্তব্যবিরোধী আইন পাস, নিষিদ্ধ হলো দুটি স্লোগান

“From the river to the sea” ও “Globalise the intifada” ব্যবহার করলে জেল হতে পারে; নতুন আইনে অস্ত্র আইনেও কঠোর পরিবর্তন

  • 8:46 pm - March 05, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৩৫ বার
কুইন্সল্যান্ডের প্রিমিয়ার David Crisafulli–এর সরকার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে “from the river to the sea” এবং “globalise the intifada” স্লোগান দুটির ব্যবহারকে আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করেছে। (ছবি: ABC News / Luke Bowden)

মেলবোর্ন, ৫ মার্চ: অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের পার্লামেন্টে নতুন ঘৃণাত্মক বক্তব্যবিরোধী আইন পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে দুটি বিতর্কিত স্লোগান—“from the river to the sea” এবং “globalise the intifada”—নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্য পার্লামেন্টে পাস হওয়া এই আইনে বলা হয়েছে, যদি এসব বাক্য এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যাতে কোনো ব্যক্তি হুমকি, হয়রানি বা অপমানের শিকার বোধ করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নতুন আইনের আওতায় এই স্লোগানগুলো লিখিত বা মৌখিকভাবে ব্যবহার করা, যেমন কোনো প্রতিবাদে স্লোগান দেওয়া বা প্ল্যাকার্ডে লেখা, অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। রাজ্য সরকার এই স্লোগানগুলোকে ইহুদিবিরোধী বা অ্যান্টিসেমিটিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

প্রাথমিকভাবে বিলটিতে অ্যাটর্নি-জেনারেলের ক্ষমতা রাখা হয়েছিল যাতে সহিংসতা বা ঘৃণা উসকে দিতে পারে এমন যেকোনো বক্তব্য নিষিদ্ধ করা যায়। তবে সপ্তাহের সংসদ অধিবেশনের আগের রাতে সরকারের পক্ষ থেকে শেষ মুহূর্তে বিলটি সংশোধন করে নির্দিষ্টভাবে কেবল এই দুটি স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো বাক্য নিষিদ্ধ করতে হলে নতুন করে আইন পাস করতে হবে।

পুলিশমন্ত্রী ড্যান পার্ডি সংসদে বলেন, এই আইন প্রয়োজনীয় এবং শক্তিশালী পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, “কুইন্সল্যান্ডের ইহুদি সম্প্রদায় নিজেদের নিরাপদ মনে করছে না। তারা মনে করছে না যে তারা যথেষ্ট সুরক্ষা পাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই সরকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে কুইন্সল্যান্ডের সকল মানুষ ঘৃণা ও সহিংসতা থেকে মুক্ত থেকে জীবনযাপন করতে পারে।”

আইনে ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্দিষ্ট কিছু প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া নতুন আইনে অস্ত্র সংক্রান্ত আইনেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ড্যান পার্ডি জানান, নতুন বন্দুক আইনে অস্ত্রের অপব্যবহারের জন্য “জাতীয় পর্যায়ে সবচেয়ে কঠোর শাস্তি” রাখা হয়েছে। নতুন বন্দুক লাইসেন্সের আবেদনকারীদের অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক হতে হবে।

অস্ত্র চুরি, পাচার এবং উপাসনালয় লক্ষ্য করে ড্রাইভ-বাই শুটিংয়ের মতো অপরাধের জন্যও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। তবে বন্ডাই বিচে সন্ত্রাসী হামলার পর ফেডারেল সরকারের প্রস্তাবিত জাতীয় অস্ত্র কিনে নেওয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেবে না কুইন্সল্যান্ড সরকার।

সংসদে বিতর্কের সময় বিরোধী দলের শ্যাডো পুলিশমন্ত্রী গ্লেন বুচার বলেন, বিলটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অতিরিক্তভাবে সীমিত করছে এবং একই সঙ্গে অস্ত্র সংস্কারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট দূর এগোয়নি।

তিনি বলেন, “এই বিলের পরামর্শ প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ প্রহসন, আর শেষ মুহূর্তে সংশোধনী আনা হয়েছে।”

অন্যদিকে কুইন্সল্যান্ড ইসলামিক কাউন্সিল তাদের জমা দেওয়া মতামতে বলেছে, এই আইন নাগরিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট দুটি স্লোগান অনেকের কাছে সহিংসতার আহ্বান নয়, বরং ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং পবিত্র ভূমিতে সকল নাগরিকের সমঅধিকারের দাবির প্রতীক।

তবে কুইন্সল্যান্ড জিউইশ বোর্ড অব ডেপুটিজ বলেছে, এসব স্লোগান ইহুদি সম্প্রদায়কে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই ইহুদিবিদ্বেষ বা সহিংসতা উসকে দেয় এমন স্লোগানের ব্যবহার আইনগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

Globalize the Intifada স্লোগানের অর্থ ও বিতর্ক

ইন্তিফাদা কী?

ইন্তিফাদা (আরবি: انتفاضة; intifāḍah) একটি আরবি শব্দ, যার শাব্দিক অর্থ হলো জেগে ওঠা, ঝাঁকিয়ে তোলা বা গণউত্থান। প্রচলিত রাজনৈতিক অর্থে এটি ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের গণআন্দোলনকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পর্যায়কে সাধারণত ‘ইন্তিফাদা’ বলা হয়।

প্রথম ইন্তিফাদা শুরু হয় ১৯৮৭ সালে এবং ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই আন্দোলনে অসহযোগ আন্দোলন, বিক্ষোভ এবং গেরিলা ধরনের প্রতিরোধ দেখা যায়। সে সময় ইসরাইলি বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের ঘটনাও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতের সময় বহু ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হন এবং বিপুল সংখ্যক শিশু সহিংসতার শিকার হয়।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা ২০০০ সালে শুরু হয় এবং কয়েক বছর ধরে সহিংস সংঘাতের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বর্তমানে অনেক বিশ্লেষক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের নতুন পর্যায়কে ‘তৃতীয় ইন্তিফাদা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

Globalize the Intifada বলতে কী বোঝায়?

“Globalize the Intifada” একটি স্লোগান, যা সাধারণত ফিলিস্তিনপন্থী কিছু কর্মী ও আন্দোলনকারীরা ব্যবহার করেন। এই স্লোগানটি মূলত ইসরাইল এবং ইসরাইলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনকে বিশ্বব্যাপী বিস্তারের আহ্বান হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

ইন্তিফাদা শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। সে কারণে অনেকের কাছে এই স্লোগানটি ইসরাইলি, ইহুদি জনগোষ্ঠী বা ইসরাইলপন্থী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার আহ্বান হিসেবে বোঝা হয়।

-ABC

এই শাখার আরও খবর

ইরানের রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলার দাবি, নতুন করে উত্তেজনা

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়,…

জনতার জবানবন্দি: ইউনূস সরকারের  ১৮ মাসের দুঃশাসনে জাতি যা হারিয়েছিল

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত—৫৪৭ দিন। ইউনূস সরকার এই ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে দুঃশাসন চালিয়েছিল। “সংস্কার” এর নামে…

কোন পথে হাঁটছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর উভয়…

ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে জয় পেয়েছে…

আইভীর মুক্তি: আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত নাকি নতুন সমীকরণ?

মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিএনপি সরকার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে কেন জামিন দিলো? হ্যাঁ, বাংলাদেশে আদালত জামিন দেয় না, জামিন দেয় যারা সরকারে থাকে। তো, আইভীকে কেন…

ঈদুল গাদিরে দুই হাজারের বেশি বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দিলেন মোজতবা খামেনি

মেলবোর্ন,০৬জুন-ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল গাদির উপলক্ষে দুই হাজারের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা মওকুফ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। শুক্রবার ইরানের বিচার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au