সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন, ৬ মার্চ- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিবও আঘাতপ্রাপ্ত হন। অভিযোগ উঠেছে, হামলাটি ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জবি প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান নাজিদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি মিলন হোসেন, জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ওমর ফারুক, যায়যায়দিনের প্রতিনিধি মিজান উদ্দিন মাসুদ, প্রথম আলোর প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন, দৈনিক বর্তমানের প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম, তরুণকণ্ঠের আবিদ হাসান বাঁধন, ব্রেকিং নিউজ ডটকমের ইয়াসিন সাইফ, বাংলাদেশ গার্ডিয়ানের হাবিবুর রহমান, রূপালী বাংলাদেশের নাফিজ উদ্দিন এবং রেডিও টুডের আবুল হাসনাত।
আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি জানতে তারা সমিতির কার্যালয়ে গেলে সেখানে ছাত্রশিবির ও জকসুর প্রতিনিধিরা অবস্থান করছিলেন এবং নির্বাচনের মনোনয়ন ফর্ম বিক্রি চলছিল।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণ জানতে চাইলে হঠাৎ উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শিবির ও জকসুর কয়েকজন নেতা এবং সমর্থক লাঠি ও স্ট্যাম্প দিয়ে হামলা চালান। এতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।
আহত সাংবাদিকরা দাবি করেন, সম্পূরক বৃত্তি ইস্যুতে জকসুর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান নেতারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন আয়োজন করেন। এতে তাদের সমর্থক নন এমন প্রায় ৩৫ জন সাংবাদিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৯টি পদে নিজেদের প্রার্থীদের নির্বাচিত দেখিয়ে সমিতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা হয় বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান নাজিদ বলেন, ভোটার তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিককে বাদ দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের ওপর হামলা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এবং ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জকসুর শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল নেতৃত্ব দেন।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি মিলন হোসেন বলেন, অতর্কিত হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। বুকে আঘাত পাওয়ায় তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আহত সাংবাদিকরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au