বাংলাদেশ

প্রিন্টের প্রতিবেদন

ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফরে সম্পর্ক স্বাভাবিকের ইঙ্গিত 

  • 2:04 pm - March 11, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৫১ বার
মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১১ মার্চ-  বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীর সাম্প্রতিক ভারত সফরকে দুই দেশের শীতল সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম প্রিন্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর দুই দেশের গোয়েন্দা পর্যায়ে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে স্থগিত থাকা যোগাযোগের বিভিন্ন চ্যানেল পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

প্রিন্ট জানায়, ঢাকায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী নয়া দিল্লি সফর করেন। সেখানে তিনি ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র)-এর প্রধান পরাগ জৈনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সফরকালে তিনি ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর এস রামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈঠকে দুই দেশের কর্মকর্তারা এমন একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছান যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা যোগাযোগের চ্যানেলগুলো আবার সক্রিয় করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত চলে যান এবং এরপর থেকে তিনি নয়া দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তার সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানালেও এ বিষয়ে ভারত এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যা দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি করে।

পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয়। এরপর সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে রদবদলের অংশ হিসেবে ২৩ ফেব্রুয়ারি মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরীকে ডিজিএফআই প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই তার ভারত সফরকে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের সময় দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি যোগাযোগ চ্যানেল কার্যত স্থগিত ছিল। তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার আগে পর্যন্ত যোগাযোগ মূলত দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের কার্যালয়ের মাধ্যমে সীমিত আকারে চলছিল।

বর্তমানে বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরজুড়ে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।

প্রতিবেদনটি আরও বলছে, ডিজিএফআই প্রধানের এই সফর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চিকিৎসাজনিত কারণে’ বলা হলেও বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে নয়া দিল্লি।

ভারত গত কয়েক মাসে বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও দেখিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে তার বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শোকবার্তা প্রদান করেন।

এ ছাড়া তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরিকে পাঠানো হয়। এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো শেখ হাসিনার অবস্থান, যিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে সহিংসতার অভিযোগে বাংলাদেশে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে বলেছেন, শেখ হাসিনার ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে জিম্মি করে রাখা হবে না।

দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চুক্তির মধ্যে রয়েছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি, যার মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। পাশাপাশি গত এক বছরে দুই দেশের আরোপ করা বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিধিনিষেধও এখনো বহাল রয়েছে।

এরই মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান শরীফ হাদির হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে ভারত। তাদের দেশে ফেরত আনতে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার মধ্য দিয়েই দুই দেশের সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা আগামী সময়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

এই শাখার আরও খবর

অগ্নিঝরা প্রীতিলতা: পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার প্রথম  বাঙালি  নারী শহীদ

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে যে কজন বিপ্লবীর নাম সাহস, আত্মত্যাগ ও দুর্জয় প্রত্যয়ের প্রতীক হয়ে আছে, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তাঁদের অন্যতম। তিনি শুধু একজন বিপ্লবী নারী…

সিএনএনসহ তিন গণমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ হারানো সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল…

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতা কারা?

কুমিল্লায় আলোচিত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য…

সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে ওপেনএআই, অভিযোগ আলবানিজের

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মেডিকেয়ারের একটি তথ্যভান্ডারে ওপেনএআইয়ের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। গত জুনে…

অন্যের ভূখণ্ড নয়, নিজেদের অর্থনীতি সামলান: পাকিস্তানকে ভারতের কটাক্ষ

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাবে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট ও কাশ্মীর নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পরিষদে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারতীয়…

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে আরও ১১ বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে বিমান

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে চলতি বছর দ্বিতীয় দফায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর ফলে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au