মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত ও ব্যয় বিতর্কের কারণে রাজধানীর বিমানবন্দর–কমলাপুর এবং নদ্দা–পূর্বাচল রুটের ওপর নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, কারণ ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করতে পারেনি। উল্টো পূর্বে চুক্তি করা দুটি অংশের কাজও থেমে গেছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ সালে ধারণামূলক নকশার ভিত্তিতে তৈরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। তবে দরপত্র প্রক্রিয়ার কারণে বর্তমানে ব্যয় বেড়ে প্রায় ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে, যা প্রাথমিক অনুমান থেকে ৮৫ শতাংশ বেশি।
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে জাপানি প্রতিষ্ঠান ও জাইকা’র শর্তও দায়ী। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ডলারের তুলনায় টাকার অবমূল্যায়নও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ।
ফারুক আহমেদ বলেন, “কাজ থেমে আছে এমন নয়। দরপত্র যাচাই করা হয়েছিল। তবে দর বেশি হওয়ায় চুক্তি বাতিলের জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। জাইকা পাল্টা চিঠিতে ব্যয়ের যুক্তি দিয়েছে। জাপানি শর্তের কারণে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে কাজের গতি কমেছে।”
প্রকল্পের দেরিতে অগ্রগতির কারণে সিপি-২, সিপি-৫ এবং প্রি-কন্ট্রাক্ট নেগোসিয়েশন শেষ হওয়া সিপি-৬ প্যাকেজসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্যাকেজ স্থগিত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে অবস্থানরত ৬–৭টি জাপানি কম্পানি বড় আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, জাপানের রাষ্ট্রদূত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যয় আরও বাড়তে পারে এবং জাপান–বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অংশীদারিত্বও চাপে পড়তে পারে। বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে, প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নের আড়ালে এটি বাতিল বা পুনঃটেন্ডারের দিকে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তবে সরকারিভাবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি।