অস্ট্রেলিয়া

টাইম আউটের জরিপ

বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় শীর্ষে মেলবোর্ন

  • 12:14 am - March 12, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৮৪ বার
বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় শীর্ষে মেলবোর্ন। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় প্রথমবারের মতো শীর্ষস্থান অর্জন করেছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম টাইম আউটের প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল বেস্ট সিটিজ’ র‌্যাঙ্কিংয়ে শহরটি এক নম্বরে উঠে এসেছে। এই তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে খাবার, সংস্কৃতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, বিনোদন, সুখের মাত্রা এবং শহরের সামগ্রিক পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।

টাইম আউটের জরিপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মতামত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন শহরভিত্তিক প্রায় ১০০ জন বিশেষজ্ঞও এই মূল্যায়নে অংশ নেন। এসব তথ্যের সমন্বয়ে ২০২৬ সালের জন্য বিশ্বের ৫০টি সেরা শহরের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

মেলবোর্ন

এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীনের সাংহাই, তৃতীয় স্থানে স্কটল্যান্ডের এডিনবরো। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক। অস্ট্রেলিয়ার আরেক বড় শহর সিডনি তালিকায় ২১তম এবং অ্যাডিলেড রয়েছে ২৯তম স্থানে।

গত দশ বছরে প্রথমবারের মতো কোনো অস্ট্রেলীয় শহর টাইম আউটের এই তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করল। এর আগে মেলবোর্নের সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল ২০১৬ সালে দ্বিতীয় স্থান। ২০২৫ সালে শহরটি ছিল চতুর্থ স্থানে।

মেলবোর্ন। ছবিঃ সংগৃহীত

প্রায় ৫৫ লাখ মানুষের বাস মেলবোর্নে। তুলনামূলকভাবে ছোট এই শহরটি সাংহাইয়ের মতো বিশাল জনসংখ্যার শহরকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে আসায় অনেকেই এটিকে উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখছেন। সাংহাইয়ে যেখানে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ বসবাস করে, সেখানে মেলবোর্নের জনসংখ্যা অনেক কম হলেও শহরটির জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও খাবারের বৈচিত্র্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মেলবোর্নঃ ছবিঃ সংগৃহীত

টাইম আউটের এই তালিকা তৈরির জন্য মোট ৪৪টি সূচক ব্যবহার করা হয়েছে। এসব সূচকের মধ্যে রয়েছে খাবারের মান, নাইটলাইফ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, জীবনযাত্রার ব্যয়, শহরের পরিবেশ, মানুষের সুখ ও সন্তুষ্টি এবং শহরের সামগ্রিক আবহ বা অনুভূতি।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের মানুষ ছিলেন এবং তারা মোট ৪২টি ভিন্ন ভাষাগত পটভূমি থেকে এসেছেন। টাইম আউটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই জরিপে স্বেচ্ছায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন শহরে কর্মরত টাইম আউটের সম্পাদকসহ প্রায় ১০০ জন শহর বিশেষজ্ঞকে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় শহরের নাম জানাতে বলা হয়। পরে এসব তথ্য একত্র করে চূড়ান্ত র‌্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়।

মেলবোর্নঃ ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বৈশ্বিক তালিকা অনেক সময়ই কিছুটা বিষয়ভিত্তিক বা ব্যক্তিগত মতামতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে। তবুও এসব তালিকা একটি শহরের জনপ্রিয়তা, জীবনযাত্রার মান এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা দেয়।

বিশ্বের শহরগুলোর র‌্যাঙ্কিং নির্ধারণের জন্য আরও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সূচক রয়েছে। এর মধ্যে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্স অন্যতম। এই সূচকে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার মান, মানবসম্পদ, পরিবেশ এবং প্রশাসনসহ পাঁচটি বড় সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলোর মূল্যায়ন করা হয়। সেই তালিকায় মেলবোর্নের অবস্থান ষষ্ঠ। সেখানে নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস, সান হোসে এবং সিয়াটল মেলবোর্নের ওপরে রয়েছে।

অন্যদিকে ‘ওয়ার্ল্ডস বেস্ট সিটিজ’ নামে আরেকটি আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে সিডনি ১১তম এবং মেলবোর্ন ২১তম স্থানে রয়েছে। ওই তালিকায় লন্ডন প্রথম, এরপর রয়েছে নিউইয়র্ক, প্যারিস এবং টোকিও।

মেলবোর্নঃ ছবিঃ সংগৃহীত

এছাড়া গত বছর প্রকাশিত ইকোনমিস্টের ‘সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর’ তালিকায় মেলবোর্ন ছিল চতুর্থ স্থানে। সেই তালিকায় কোপেনহেগেন, ভিয়েনা এবং জুরিখ মেলবোর্নের আগে ছিল।

তবে টাইম আউটের জরিপে মেলবোর্নের নাগরিকদের সন্তুষ্টির মাত্রা বেশ উঁচুতে দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া বাসিন্দাদের অনেকেই বলেছেন, তারা নিজেদের শহরে বসবাস করে সুখী বোধ করেন এবং দৈনন্দিন জীবনেও আনন্দ খুঁজে পান।

মেলবোর্নঃ ছবিঃ সংগৃহীত

জরিপে দেখা গেছে, মেলবোর্নের ৯৪ শতাংশ বাসিন্দা শহরের খাবারের মানকে অত্যন্ত ভালো বলে মূল্যায়ন করেছেন। একইভাবে ৯২ শতাংশ মানুষ শহরের শিল্প ও সংস্কৃতির পরিবেশের প্রশংসা করেছেন। তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন জেডের জন্য উপযোগী শহরের তালিকাতেও মেলবোর্ন বিশ্বে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

মেলবোর্নঃ ছবিঃ সংগৃহীত

টাইম আউটের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেলি স্মিথ বলেন, বিশ্বের বড় বড় নগরকেন্দ্রকে পেছনে ফেলে মেলবোর্নের শীর্ষে ওঠা সত্যিই আনন্দের বিষয়।

তার মতে, মেলবোর্ন, সিডনি এবং অ্যাডিলেড এমন শহর যেখানে মানুষ অসাধারণ খাবার, উৎসব এবং সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে। একই সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনেও মানুষ আনন্দ খুঁজে পায়, যা একটি শহরকে সত্যিকারের বসবাসযোগ্য করে তোলে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বীকৃতি মেলবোর্নের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বাড়াবে এবং শহরটির পর্যটন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এই শাখার আরও খবর

ঈদুল গাদিরে দুই হাজারের বেশি বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দিলেন মোজতবা খামেনি

মেলবোর্ন,০৬জুন-ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল গাদির উপলক্ষে দুই হাজারের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা মওকুফ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। শুক্রবার ইরানের বিচার…

তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য বাউবির দরজা সবসময় খোলা: উপাচার্য

মেলবোর্ন,০৬জুন-তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা…

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে জাতীয় দলে ফিরছেন সালাউদ্দিন, কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তন

মেলবোর্ন,০৬জুন-আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচিং স্টাফে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোচিং স্টাফে জনবল সংকট দেখা দেওয়ায় আবারও জাতীয় দলের…

বউকে বাঁচাতে গিয়ে শাশুড়ির মৃত্যু, কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল দুজনের

মেলবোর্ন,০৬জুন-কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় এক গৃহবধূ ও তার শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের উখরাশাল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের এক…

চার সীমান্ত দিয়ে পুশ–ইন চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি ও স্থানীয়রা

মেলবোর্ন,০৬জুন-লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৬০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।…

ইসরায়েল ও ইরানের ওপর চটলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

মেলবোর্ন, ৫ জুন-  দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল এবং ইরান উভয়ের প্রতিই কড়া বার্তা দিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। তিনি একদিকে বেসামরিক…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au