বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পারমাণবিক হুমকির তালিকায় পাকিস্তানও: তুলসি গ্যাবার্ড

  • 4:34 am - March 20, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৪৬ বার
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পারমাণবিক হুমকির তালিকায় পাকিস্তানও: তুলসি গ্যাবার্ড

মেলবোর্ন, ১৯ মার্চ- যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক হুমকির উৎস হিসেবে পাকিস্তানকে চিহ্নিত করেছেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানসহ একাধিক দেশ এমন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গড়ে তুলছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

বুধবার মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির বৈঠকে ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন তুলসি গ্যাবার্ড। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের পাশাপাশি ইরান, চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া সক্রিয়ভাবে পরমাণু ও প্রচলিত ওয়ারহেড বহনে সক্ষম নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর ও সক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে।

শুনানিতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে গ্যাবার্ড বলেন, ইসলামাবাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ক্রমেই বাড়ছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষায়, “রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান ও পাকিস্তান উন্নত ও প্রচলিত উভয় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা আমাদের মাতৃভূমিকে তাদের নাগালের মধ্যে নিয়ে এসেছে।”

তিনি আরও জানান, পাকিস্তান দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে এবং তাদের পরিকল্পনায় আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও থাকতে পারে, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। এই ধরনের সক্ষমতা অর্জন করলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ভারসাম্যে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা নিতে চেষ্টা করছে, যাতে নিজেদের সামরিক কর্মসূচি সেই অনুযায়ী সাজাতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, আগামী এক দশকে এই হুমকি আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বর্তমান প্রায় ৩ হাজার থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষক সুজা নওয়াজ এই মূল্যায়নকে পূর্ববর্তী মার্কিন নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এর আগেও মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে তিনি বলেন, পাকিস্তানের শাহিন-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ২ হাজার ৮০০ কিলোমিটার এবং ইসলামাবাদ বারবার দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মূলত প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশে হামলার পরিকল্পনা তাদের নেই বলেও পাকিস্তান বহুবার জানিয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তান নিয়ে তুলনামূলক ইতিবাচক অবস্থান নিলেও এই ধরনের মূল্যায়ন তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেদনে পাকিস্তানকে এককভাবে লক্ষ্য করা হয়নি; বরং অন্যান্য পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন দেশের সঙ্গে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্যাবার্ড শুনানিতে আরও সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী এখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাকে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে কাশ্মিরের পেহেলগাম হামলার পর দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর কূটনৈতিক উদ্যোগে ওই সময় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও অঞ্চলটিতে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যেকোনো সময় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। একইসঙ্গে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা এবং তালেবান সরকারের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কের অবনতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ইরান প্রসঙ্গে গ্যাবার্ড বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর দেশটির সরকার কিছুটা দুর্বল হলেও এখনো টিকে রয়েছে এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে। তিনি দাবি করেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানকে কিছুটা কোণঠাসা করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট সিনেটর মাইকেল বেনেটের তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে। ইরানের হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ তোলেন বেনেট। পাশাপাশি গোয়েন্দা প্রধানের সহযোগী জোসেফ কেন্টের পদত্যাগের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিবেদন শুধু বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন বিশ্ব রাজনীতিকে নতুন করে জটিল করে তুলতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এই শাখার আরও খবর

গাইবান্ধার রামমূর্তি নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা: কারা এবং কেন দিচ্ছে ভাঙার হুমকি?

মেলবোর্ন, ৬ জুন- গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমপ্লেক্সে নির্মাণাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রামমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয়…

এভারেস্ট জয়ের রহস্য: ১০০ বছর পরও অজানা ম্যালোরি-আরভিনের শেষ পরিণতি

মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টকে ঘিরে অসংখ্য ইতিহাস, অর্জন ও ট্র্যাজেডির গল্প রয়েছে। তবে এসব কাহিনির মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী…

ইরানের রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলার দাবি, নতুন করে উত্তেজনা

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়,…

জনতার জবানবন্দি: ইউনূস সরকারের  ১৮ মাসের দুঃশাসনে জাতি যা হারিয়েছিল

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত—৫৪৭ দিন। ইউনূস সরকার এই ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে দুঃশাসন চালিয়েছিল। “সংস্কার” এর নামে…

কোন পথে হাঁটছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর উভয়…

ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে জয় পেয়েছে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au