মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ মার্চ- ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা থেকে আপাতত সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই মুহূর্তে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছেন না। এমনকি যদি কখনো পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়াও হয়, সেটি আগেভাগে প্রকাশ করা হবে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেই স্পষ্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে চলমান মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এলো। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা চলছে। গত গ্রীষ্মে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কার্যত ‘নিশ্চিহ্ন’ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও উপকরণ চাপা পড়ে থাকতে পারে, যেগুলো উদ্ধার বা জব্দ করার বিষয়টি এখন আলোচনায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কোনো অভিযান বাস্তবায়ন করতে গেলে ইরানের অভ্যন্তরে সরাসরি অভিযান চালাতে হতে পারে, যার জন্য বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই সম্ভাবনা আপাতত কমে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, চলমান সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরানের একটি দাবি ঘিরে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর দাবি করেছে যে তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে একটি মার্কিন কৌশলগত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হেনেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে ইরানের এই দাবির সত্যতা এখনো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এখনো এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। যদি এই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি হবে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে সরাসরি আঘাত হানার প্রথম ঘটনা, যা সামরিক প্রযুক্তির দিক থেকে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত। এটি স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন হওয়ায় সহজে শনাক্ত করা কঠিন। ফলে এমন একটি বিমানে আঘাত হানার দাবি সত্য হলে তা সামরিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরান সরাসরি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানেনি বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু এই দাবি সত্য হলে তা হবে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সরাসরি আক্রমণ।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত সরাসরি স্থলযুদ্ধে জড়ানোর পথ এড়িয়ে চলছে, তবুও সামরিক উত্তেজনা যে কোনো সময় নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এ অবস্থায় কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কতটা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হলেও বাস্তবে সংঘাত থামানোর মতো কার্যকর উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা