এভারেস্ট জয়ের রহস্য: ১০০ বছর পরও অজানা ম্যালোরি-আরভিনের শেষ পরিণতি
মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টকে ঘিরে অসংখ্য ইতিহাস, অর্জন ও ট্র্যাজেডির গল্প রয়েছে। তবে এসব কাহিনির মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী…
মেলবোর্ন, ২১ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। বিশেষ করে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস স্থাপনায় হামলার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। কারণ, দেশের মোট এলএনজি আমদানির বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার থেকে। এই নির্ভরশীলতার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সম্প্রতি কাতারের রাস লাফান শিল্প নগরী এবং ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার ফলে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত সাত থেকে আট মাস সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, বৈশ্বিক বাজারে গ্যাসের দাম ইতোমধ্যেই বেড়েছে। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গ্যাসের মূল্য প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে স্পট মার্কেটে এলএনজি কিনতে বাংলাদেশকে আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মূল্য গুনতে হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক প্রায় চারশ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা এর অর্ধেকেরও কম। এই ঘাটতি পূরণে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয় বাংলাদেশকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিকৃত গ্যাসের প্রায় ৬০ শতাংশই কাতার থেকে আসে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা হচ্ছে এবং অন্যান্য দেশ থেকেও আমদানির চেষ্টা চলছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কেনা সাময়িক সমাধান হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তারা বলছেন, নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়াতে হবে।

ছবিঃ সংগৃহীত
এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে নীতিগত বাধা কমিয়ে দিলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে রেশনিংসহ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। একইসঙ্গে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তেল ও গ্যাস আমদানির বিকল্প পথ খোঁজা হচ্ছে।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি খাতে বৈশ্বিক সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে, যার প্রভাব এড়ানো বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au