বক্স অফিস কাপাচ্ছে ‘ধুরন্ধর টু’
মেলবোর্ন, ২১ মার্চ- বলিউডের দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে বক্স অফিসে নতুন দাপট দেখাতে শুরু করেছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। ১৯ মার্চ বিশ্বজুড়ে মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি রীতিমতো…
মেলবোর্ন, ২১ মার্চ- পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানে সহায়তার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর ফলে এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জন্য ব্যবহৃত ইরানি স্থাপনা বা অবস্থান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা যাবে।
এর আগে ব্রিটিশ স্বার্থ বা নাগরিকদের জীবন হুমকির মুখে ফেলতে পারে এমন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল ডাউনিং স্ট্রিট। তবে নতুন সিদ্ধান্তে সেই অনুমতির পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন শুধু প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নয়, বরং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজেও এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাজ্য সরাসরি কোনো সামরিক হামলায় অংশ নেবে। বরং তাদের নীতিগত অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। এক মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার সক্ষমতা যেসব স্থাপনা থেকে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে সহায়তা করতেই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও বেড়েছে। তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ফোনালাপে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
কাতারের আমিরের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়েছে। দুই নেতা এসব হামলাকে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগ গ্রহণ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে ন্যাটো মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে তিনি মিত্র দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে এগিয়ে আসেনি।
তিনি ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে। তবে বেশিরভাগ দেশই এতে সাড়া না দেওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ন্যাটো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে এবং মিত্রদের তিনি ‘ভীতু’ বলেও আখ্যা দেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, মার্কিন প্রশাসনের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করছে, অন্যদিকে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে নৌবাহিনী ধ্বংসের দাবি করা হলেও মার্কিন যুদ্ধজাহাজের অবস্থান পরিবর্তন ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়।
আরাগচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যেমন নিজেদের সাফল্য নিয়ে অতিরঞ্জিত বক্তব্য দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে।
তিনি আরও সতর্ক করে জানান, ইরানের কাছে তথ্য রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে। এ ধরনের হামলা হলে ইরান ‘বিন্দুমাত্র সংযম’ দেখাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পদক্ষেপ, অন্যদিকে ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au