মহান স্বাধীনতা দিবস আজ, বীর সন্তানদের শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে জাতি
মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে নতুন…
মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধার বধ্যভূমিগুলো এখনো অবহেলা, দখলদারিত্ব ও সংরক্ষণের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। একসময় মুক্তিযুদ্ধের নির্মমতা ও শহীদের রক্তে ভেজা এসব স্থান আজ অনেক ক্ষেত্রে হারিয়ে যাচ্ছে নীরবে।
জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধায় চিহ্নিত ৪৩টি বধ্যভূমি ও গণকবরের মধ্যে অন্তত ২৫টির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কোথাও আবর্জনার স্তূপ, কোথাও প্রভাবশালীদের দখল, আবার কোথাও কৃষিকাজ চলছে। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শনগুলো যেন ধীরে ধীরে মুছে যাওয়ার পথে।
স্বাধীনতার পর থেকে বধ্যভূমি সংরক্ষণে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের অভাবে সেগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতি বছর দিবসকেন্দ্রিক কর্মসূচি, সমাবেশ, মিছিল কিংবা মোমবাতি প্রজ্বলনের আয়োজন হলেও বধ্যভূমি উদ্ধার ও সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবই প্রকট হয়ে উঠেছে।
২০১৪ সালে উচ্চ আদালত সারা দেশের বধ্যভূমি সংরক্ষণের নির্দেশ দিলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। গাইবান্ধা জেলা শহরের স্টেডিয়ামসংলগ্ন বধ্যভূমি তারই একটি উদাহরণ। একাত্তরে যেখানে নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে মানুষকে মাটিচাপা দেওয়া হতো, সেই স্থান এখন আগাছায় ভরা, সেখানে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নেই, বরং চলছে চাষাবাদ।
এমনকি এই ঐতিহাসিক স্থানে একটি আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে বধ্যভূমি সংরক্ষণ কমিটি, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আপত্তি জানালে তা আদালতে গড়ায় এবং বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে সদর উপজেলার কামারজানি এলাকায়। একসময় যেখানে আর্মি ক্যাম্প ও বধ্যভূমি ছিল, বর্তমানে সেখানে কাঠ চেরাইয়ের ব্যবসা চলছে। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু দখল নয়, শহীদদের স্মৃতির প্রতি চরম অবমাননা।
পলাশবাড়ীর পশ্চিম রামচন্দ্রপুর বধ্যভূমির অবস্থাও শোচনীয়। সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ থাকলেও তা অরক্ষিত এবং ভাঙচুরের শিকার। পুরো এলাকা ময়লা-আবর্জনায় ভরা, এমনকি গবাদিপশু রাখার স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি রক্ষণাবেক্ষণ বা কর্মসূচির উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
গবেষক ও সচেতন মহলের মতে, বধ্যভূমি শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, এগুলো জাতির ইতিহাস, ত্যাগ ও বেদনার নীরব সাক্ষী। এসব সংরক্ষণে ব্যর্থতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস থেকে বঞ্চিত করবে। শহীদ পরিবারের সদস্যরাও এই অবহেলায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গাইবান্ধা বধ্যভূমি সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মোস্তফা মনিরুজ্জামান জানান, ২০২২ সালে গণপূর্ত বিভাগ বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তবে পরবর্তীতে একটি মহল জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে আইনি জটিলতায় প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়। বর্তমানে বিষয়টি আপিল পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি দ্রুত বেদখল হওয়া বধ্যভূমি উদ্ধার, সংরক্ষণ এবং জেলার সবগুলো বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান।
এদিকে বধ্যভূমি সংরক্ষণের দাবিতে আজ সন্ধ্যায় পৌরপার্কের স্মৃতিস্তম্ভ থেকে আলোর মিছিল নিয়ে জেলা স্টেডিয়ামসংলগ্ন বধ্যভূমির দিকে যাবে সংরক্ষণ কমিটি। পাশাপাশি বিকেলে পৌরপার্কের শহীদ মিনারে আলোচনা সভা, গান-কবিতা এবং আলোর মিছিলের আয়োজন করেছে স্থানীয় প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে গাইবান্ধার এসব বধ্যভূমি একসময় পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে এবং ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হারিয়ে যাবে চিরতরে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au