মিথ্যা মামলায় বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেনকে এক লাখ টাকা জরিমানা
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- রাজশাহীতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন হামলার অভিযোগে করা একটি মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেনকে এক লাখ টাকা জরিমানা…
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় এক রাজনৈতিক নেতার পরিবারের সদস্যদের আটক ও একটি শিশুকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, যেখানে মানবাধিকার ও আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিরা উখিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন মেম্বারের পরিবারের সদস্য। আটক হওয়া চারজনের মধ্যে রয়েছেন তার পিতা জাফর আলম (৮০), স্ত্রী, ভাইয়ের স্ত্রী এবং প্রায় আট বছর বয়সী এক শিশু।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দিবাগত রাতে। পুলিশ সালাহউদ্দিন মেম্বারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ছোট ভাই মিজানকে আটক করে। তবে একপর্যায়ে তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যান। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় ‘পুলিশের ওপর হামলা’ অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আটক চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে একজন বৃদ্ধ, দুই নারী এবং একটি শিশুকে এভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত ও আটক করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানো নিয়ে মানবিক ও আইনি দিক থেকে প্রশ্ন উঠেছে।
আইনজীবী ব্যারিস্টার সাফফাত ফারদিন রামিম সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ৯ বছরের নিচে কোনো শিশুকে ফৌজদারি অপরাধে দায়ী করা যায় না। সেই বিবেচনায় একটি শিশুকে গ্রেপ্তার বা আটক করা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক সাইদ মোহাম্মদ আনোয়ারও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে থানায় আটক রেখে আদালতে পাঠানো শুধু আইনের পরিপন্থী নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধেরও গুরুতর অবমাননা।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে আইনের বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে। তাই কোনো শিশুকে মামলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা বা আটক রাখা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, যেখানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও জরুরি।
অন্যদিকে পুলিশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পালিয়ে যাওয়া এক আসামিকে ধরতে গিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) রকিবুল হাসান জানান, পরিবারের অনুরোধেই শিশুটিকে তার মায়ের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনি ও মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au