বাংলাদেশ

কক্সবাজারে মায়ের সাথে কারাগারে ছোট্ট শিশু

পুলিশি মামলায় বিতর্ক

  • 2:54 am - April 13, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৬৩ বার
ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় এক রাজনৈতিক নেতার পরিবারের সদস্যদের আটক ও একটি শিশুকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, যেখানে মানবাধিকার ও আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিরা উখিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন মেম্বারের পরিবারের সদস্য। আটক হওয়া চারজনের মধ্যে রয়েছেন তার পিতা জাফর আলম (৮০), স্ত্রী, ভাইয়ের স্ত্রী এবং প্রায় আট বছর বয়সী এক শিশু।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দিবাগত রাতে। পুলিশ সালাহউদ্দিন মেম্বারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ছোট ভাই মিজানকে আটক করে। তবে একপর্যায়ে তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যান। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় ‘পুলিশের ওপর হামলা’ অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আটক চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তবে একজন বৃদ্ধ, দুই নারী এবং একটি শিশুকে এভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত ও আটক করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানো নিয়ে মানবিক ও আইনি দিক থেকে প্রশ্ন উঠেছে।

আইনজীবী ব্যারিস্টার সাফফাত ফারদিন রামিম সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ৯ বছরের নিচে কোনো শিশুকে ফৌজদারি অপরাধে দায়ী করা যায় না। সেই বিবেচনায় একটি শিশুকে গ্রেপ্তার বা আটক করা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক সাইদ মোহাম্মদ আনোয়ারও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে থানায় আটক রেখে আদালতে পাঠানো শুধু আইনের পরিপন্থী নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধেরও গুরুতর অবমাননা।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে আইনের বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে। তাই কোনো শিশুকে মামলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা বা আটক রাখা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, যেখানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও জরুরি।

অন্যদিকে পুলিশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পালিয়ে যাওয়া এক আসামিকে ধরতে গিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) রকিবুল হাসান জানান, পরিবারের অনুরোধেই শিশুটিকে তার মায়ের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনি ও মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এই শাখার আরও খবর

উৎসবের মঞ্চে ঐতিহ্য ও মানবিকতার মেলবন্ধন, ‘মহাশক্তি সম্মান’-এ স্বীকৃতি ২৫ দুর্গাপুজোর

দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক অবদান ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি দিতে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ২৫টি দুর্গাপুজো কমিটিকে ‘মহাশক্তি সম্মান’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ‘উই আর দ্য কমন…

পারিবারিক বন্ধুর হামলায় পা হারালেন অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপি, সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে

অস্ট্রেলিয়ায় স্বতন্ত্র নারী সংসদ সদস্য হেলেন হেইন্সকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে হামলাকারীর পরিচয় ঘিরে। ৬৫ বছর বয়সী এই এমপির ওপর…

ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত নেতানিয়াহুর, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা

ইরানে আবারও হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি ইরানের সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ…

যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল পাকিস্তান ও কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই দেশের কাছে…

বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন: বিদায়ের বেদনা, ঐতিহ্য, ধর্মীয় তাৎপর্য ও সম্প্রীতির মহামিলন

শরতের নির্মল আকাশ, সাদা কাশফুলের দোলা, শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস, ঢাকের মধুর বাদ্য আর চারদিকে উৎসবের আমেজ—এসবের মধ্য দিয়েই বাঙালির হৃদয়ে আবির্ভূত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।…

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম

‘আমি কেমনে বাঁচুম রে, আমার সুইটিরে আইনা দ্যাও রে। আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম।’ সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেয়ে সুইটি আক্তারের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au