বাংলাদেশ

গোলটেবিল বৈঠক

ঐকমত্য কমিশনের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সারা হোসেন

  • 1:55 pm - April 22, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৫৬ বার
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈধতা ও গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন। তাঁর দাবি, এই কমিশন কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়নি; বরং ‘সিলেকশন’ বা বাছাইয়ের মাধ্যমে কয়েকজনকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার: সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, আদালতের নির্দেশনা ও জনআকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক আয়োজিত এ আলোচনায় সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

আলোচনায় সারা হোসেন বলেন, ঐকমত্য কমিশনকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ফল হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে তা নয়। তিনি বলেন, “যে প্রক্রিয়ায় এই কমিশন গঠন করা হয়েছে, সেখানে জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না। কয়েকজনকে নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র সেখানে কোথায় ছিল? কে বাইরে থেকে এসে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে? কেউ না।”

তিনি আরও বলেন, কমিশনের গঠনেও বৈচিত্র্যের ঘাটতি ছিল। তাঁর মতে, ঐকমত্য কমিশনে একজন নারী সদস্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একইভাবে বিচারব্যবস্থা সংস্কার কমিশনেও কোনো নারী আইনজীবী বা বিচারপতিকে যুক্ত করা হয়নি, যা একটি বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, গণভোটের তৃতীয় প্রশ্নসহ অনেক বিষয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষের পরিষ্কার ধারণা ছিল না। উপস্থিতদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “কয়জন বলতে পারবেন ৩০টি প্রস্তাব কী ছিল? মানুষ কী বিষয়ে ভোট দিয়েছে, সেটাই যদি পরিষ্কার না থাকে, তাহলে সেই ভোটের মূল্য কতটুকু?”

বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনার সময় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ পুনর্বহালের পক্ষে মত দেন সারা হোসেন। তাঁর মতে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এসব আইনের গুরুত্ব রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা-কে দেশত্যাগে বাধ্য করার ঘটনাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এত বছর পেরিয়ে গেলেও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত বা জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি। একইভাবে সাম্প্রতিক সময়েও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আপিল বিভাগের বিচারকদের পদত্যাগের ঘটনাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সারা হোসেন আরও অভিযোগ করেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায় দেওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক-কে ‘মিথ্যাভাবে’ একটি হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এতদিনেও এ মামলায় কোনো চার্জশিট দাখিল হয়নি, তবুও অভিযোগ তুলে ধরা হচ্ছে, যা বিচারব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, “এই ধরনের বিষয়ে নাগরিক সমাজ, আইনজীবী সংগঠন কিংবা বার কাউন্সিলের দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া নেই। সবাই নীরব রয়েছে, যা প্রশ্নের জন্ম দেয়।”

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আইনজীবী ইমরান সিদ্দিকী এবং ফাহিম মাশরুরসহ অন্যান্যরা। আলোচনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংস্কার এবং জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

এই শাখার আরও খবর

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au