পেরুর জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনাকারী সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল অফিস অব ইলেক্টোরাল প্রসেসেস (ওএনপিই)-এর প্রধান পিয়েরো করভেত্তো। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- পেরুর নির্বাচনী সংস্থার প্রধান দীর্ঘ সময় ধরে ভোট গণনায় বিলম্ব এবং চলমান বিশৃঙ্খলার মধ্যে জনগণের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন। দেশটিতে সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের পর ভোট গণনা এখনো সম্পূর্ণ না হওয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
পেরুর জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনাকারী সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল অফিস অব ইলেক্টোরাল প্রসেসেস (ওএনপিই)-এর প্রধান পিয়েরো করভেত্তো মঙ্গলবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তিনি জাতীয় বিচার বোর্ডের (জেএনজে) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দাবি করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে কিছু রাজনীতিবিদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে করভেত্তো বলেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তার মতে, আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা জরুরি।
গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময় নানা ধরনের প্রশাসনিক ও লজিস্টিক জটিলতা দেখা দেয়। এর ফলে রাজধানী লিমা এবং অন্যান্য অঞ্চলে ভোটগ্রহণের সময় বাড়াতে হয়। এই পরিস্থিতি দেশজুড়ে নির্বাচন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো বলছে, ভোটগ্রহণ ও গণনায় কিছু ত্রুটি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ছিল, তবে এখন পর্যন্ত জালিয়াতির কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দেশটির জাতীয় নির্বাচন জুরি (জেএনই) জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ১৫ মে’র মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ওই ফলাফলের ভিত্তিতে শীর্ষ দুই প্রার্থী দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বর্তমান ফলাফলে ডানপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরি প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন এবং দ্বিতীয় দফায় যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কে হবেন তা এখনো অনিশ্চিত। বামপন্থী কংগ্রেসম্যান রবার্তো সানচেজ পেয়েছেন প্রায় ১২ শতাংশ ভোট, আর লিমার সাবেক ডানপন্থী মেয়র রাফায়েল লোপেজ আলিয়াগা পেয়েছেন ১১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট, ফলে দুইজন কার্যত কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন।
এই নির্বাচনের প্রথম দফার জটিলতা দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের অসন্তোষ আরও বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনের আগেই করা এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৬৮ শতাংশ পেরুবাসী দেশের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের ওপর খুব কম বা একেবারেই আস্থা রাখেন না।
এদিকে কয়েকজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী, বিশেষ করে রাফায়েল লোপেজ আলিয়াগা, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রথম দফার নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন, যদিও এসব অভিযোগের স্বপক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে হাজার হাজার বিতর্কিত ব্যালট পুনরায় যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। এসব ব্যালটে অসঙ্গতি, তথ্যের ঘাটতি এবং গণনা ত্রুটি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা