ইরানের আসালুয়েহ'র এই পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে ইরান ও রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সমুদ্রপথে তেল সরবরাহে বিঘ্ন এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট মঙ্গলবার সেনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন সাবকমিটির বাজেট শুনানিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনুরোধ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করেই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্কট বেসেন্ট জানান, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠকের ফাঁকে প্রায় ১০টি দেশের অর্থনৈতিক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তারা সরাসরি অনুরোধ জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সময়সীমা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যেসব দেশ তেল আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তারা তীব্র সংকটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আগামী আরও এক মাস সমুদ্রপথে ইরান ও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি করতে পারবে। জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে এটি সাময়িক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই অবস্থান আগের ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গত সপ্তাহেই তিনি বলেছিলেন, নির্ধারিত সময় শেষ হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না এবং নতুন কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এরপর মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অবস্থান পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বাজার স্থিতিশীলতার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চাপই এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।