যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের শীর্ষ এক নৌ কর্মকর্তা বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন পরিচালনার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র চাইলে “আগামীকালই” শুরু করতে পারে। তার মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় এই সক্ষমতা গড়ে তোলা “অত্যন্ত জরুরি”।
বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটির সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো জানান, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার হিমাস স্টার্লিং নৌঘাঁটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাবমেরিন রোটেশনাল ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত করার কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। এই পরিকল্পনা আগামী বছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, ভারত মহাসাগরে একটি রোটেশনাল ঘাঁটি থাকা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, “হিমাস স্টার্লিং আগামী এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই পার্থে আসা রোটেশনাল বাহিনীর জন্য প্রস্তুত থাকবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, ঘাটির অবকাঠামো, জেটি, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, সহায়ক সুবিধা এবং নিরাপত্তা কাঠামো মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে “আজ থেকেই প্রস্তুত অবস্থায় থাকা সাবমেরিন ইউনিট অস্ট্রেলিয়া থেকে পরিচালনা শুরু করা সম্ভব”।
অ্যাডমিরাল পাপারো বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সাবমেরিন কর্মীরা প্রশিক্ষণ ও পরিচালন দক্ষতায় ভালো অগ্রগতি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। তার মতে, সাবমেরিন সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত পুরো পরিকল্পনা নির্ধারিত পথে এগোচ্ছে।
এই প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগ অকাস-এর অংশ। এর লক্ষ্য হলো আগামী দশকের শুরুতে অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন সক্ষমতা দেওয়া।
এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার হিমাস স্টার্লিং ঘাঁটিকে আধুনিকায়ন করছে। ভবিষ্যতে এই ঘাঁটি থেকে সাবমেরিন রোটেশনাল ফোর্স পরিচালিত হবে, যা অঞ্চলটিতে পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।