নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে সরকার: পিআরআই
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- সরকার নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) মুখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, মার্চ…
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- সহিংসতা, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজ্যের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর এবং উত্তেজনার খবর সামনে আসায় নির্বাচন ঘিরে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চণ্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম দফার ভোটের দিনেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। ফতেপুর এলাকার ৬১ নম্বর বুথের কাছে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি অস্থায়ী নির্বাচনী ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতি ও সহিংসতায় রূপ নেয়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা আচমকা তাদের ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে নির্বিচারে মারধর শুরু করে। এতে তাদের এক কর্মী গুরুতর আহত হন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, বিজেপিই পরিকল্পিতভাবে অশান্তি তৈরি করে ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হুমায়ুন কবিরের গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। ছবিঃ সংগৃহীত
মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা কেন্দ্রেও পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। সকাল থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, হুমায়ুন কবীরের কনভয়ের ওপর হামলা চালানো হয়, তার গাড়িতে ভাঙচুর করা হয় এবং পোলিং এজেন্টদের গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করা হয়। এমনকি তার গাড়ির সামনে বাঁশ ফেলে পথ অবরোধেরও চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা চলার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে আসে। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় এলাকায় রীতিমতো রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়, ফলে অনেক ভোটার নিরাপত্তার কারণে সরে যেতে বাধ্য হন।
দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জেও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। সেখানে বিজেপি প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বুথে প্রবেশে পোলিং এজেন্টদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিজেপি প্রার্থী নিজেই তৃণমূল কর্মীদের ধাওয়া করেন বলে জানা গেছে।
মালদহ জেলাতেও একাধিক অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কোথাও দলীয় ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ, আবার কোথাও ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। হরিশ্চন্দ্রপুরে দলীয় ক্যাম্প অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে। মালতীপুরে কংগ্রেস প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল কর্মীরা ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
এদিকে পিংলা এলাকায় বিজেপির এক পোলিং এজেন্টকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।
বীরভূম জেলার লাভপুরেও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে বিজেপি প্রার্থীর এক এজেন্টের মাথা ফেটে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইভাবে মালদহের সুজাপুর বিধানসভার ১৫৯ নম্বর বুথেও ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ভোটাররা বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ, পরিচয়পত্র যাচাইয়ের নামে ভোট প্রক্রিয়া ধীরগতির করা হচ্ছিল এবং ভোটারদের ভোটার স্লিপ জোর করে নিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এতে ভোটারদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বচসা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা হস্তক্ষেপ করেন এবং পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

১৫২ আসনে তৃণমূল-বিজেপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ছবিঃ সংগৃহীত
একাধিক সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে বলে জানা গেছে। প্রথম দফার ভোটের দিনেই এ ধরনের অশান্তি রাজ্যের সার্বিক নির্বাচন পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, যা আগামী দফার ভোটগ্রহণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরে সর্বোচ্চ ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ ভোট পড়েছে, আর মালদহে সর্বনিম্ন ৩৮ দশমিক ২২ শতাংশ।
সূত্রঃ এবিপি আনন্দ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au