বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ, উত্তরের জেলায় বিদ্যুৎ সংকট
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন হঠাৎ করেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে আসার কারণে বয়লার পাইপ ফেটে এই…
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম এনবিসি নিউজ। ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষাঙ্গন ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলেন ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন এবং একই বয়সী নাহিদা এস বৃষ্টি। তারা দুজনই আলাদা বিষয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, জামিল লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তাকে শেষবার দেখা যায় গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পায় তার বাসায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস নিখোঁজের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন নথিভুক্ত করেছে।
অন্যদিকে নাহিদা এস বৃষ্টি রাসায়নিক প্রকৌশলের শিক্ষার্থী। তাকে একই দিন সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে সর্বশেষ দেখা যায় বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ। তার নিখোঁজের ঘটনাও পৃথকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুই শিক্ষার্থী একে অপরের বন্ধু ছিলেন এবং তারা একসঙ্গে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের এমনভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কোনো কারণ তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। জামিল লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ বলেন, তার ভাই অত্যন্ত দায়িত্বশীল একজন মানুষ। তিনি বলেন, “সে কাউকে না জানিয়ে কোথাও চলে যাবে, এটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।”
অন্যদিকে নাহিদা বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিনও তার বোন পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বৃষ্টি নিয়মিতভাবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং এমন কিছু করার কথা তারা ভাবতেই পারছেন না যা পরিবারের জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের পরিকল্পনাও ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্কে ছিলেন না।
তদন্তে জানা গেছে, নাহিদা বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে তার ল্যাপটপ, আইপ্যাডসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র রেখে যান। তবে তার সঙ্গে শুধু মোবাইল ফোন ও পার্স ছিল বলে জানা যায়। অন্যদিকে জামিল লিমনের পাসপোর্ট তার নিজ বাসায় পাওয়া গেছে।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ এবং শেরিফ অফিস যৌথভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ঘটনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। পরিবারগুলো দ্রুত তাদের সন্ধান পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au