অস্ট্রেলিয়া জুড়ে অ্যানজাক (ANZAC) ডে পালিত
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল: ২৫ এপ্রিল শনিবার অস্ট্রেলিয়া জুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, নীরবতা এবং গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে অ্যানজাক (ANZAC) ডে। ভোরের প্রথম প্রহর থেকেই…
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- ইরানি পতাকাবাহী একটি জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা’ (ডিডিজি ১১৫) ইরানের একটি বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়া জাহাজটিকে গতিরোধ করে নিয়ন্ত্রণে নেয়। জাহাজটি ঠিক কোন পণ্য বহন করছিল বা কোন বন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই অবরোধ এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কার্যকর হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, মার্কিন নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।
হেগসেথ দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপ তেহরানকে আলোচনায় ফেরাতে চাপ তৈরি করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের সঙ্গে একটি “অর্থবহ” পারমাণবিক চুক্তির সুযোগ খোলা রেখেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করে, তাহলে সেটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি চলছে। সেন্টকমের জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, অবরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বহু জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এই নজরদারি প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইরানের দিকে যাওয়া বা সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজ এখন কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
এই অবস্থার মধ্যেই সমুদ্রপথে থাকা ইরানি ও রাশিয়ান তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কিছু ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড়ের সুযোগ নেই এবং অবরোধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে সমান্তরালভাবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তান সফরে গিয়ে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করছেন। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। তবে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ইরানি ও মার্কিন উভয় সূত্রই জানিয়েছে, এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সরাসরি বৈঠক চূড়ান্ত হয়নি, যদিও আলাদা আলাদা আলোচনা চলছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার আবারও ইসলামাবাদ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের লক্ষ্য ইরানের সঙ্গে একটি নতুন সমঝোতার পথ খোঁজা। এর আগে একই ধরনের আলোচনার একটি দফা অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।
এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান একটি নতুন প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেটি বিবেচনা করবে। তবে তিনি পুনরায় স্পষ্ট করেন, যেকোনো চুক্তিতে ইরানকে অবশ্যই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে সরে আসতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রপথে অবরোধ, জাহাজ জব্দ, কূটনৈতিক আলোচনা এবং সামরিক সতর্কতা সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন উচ্চমাত্রার উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au