বিদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী টানতে জাপানের নতুন উদ্যোগ
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- জাপানে উচ্চ দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ ও ধরে রাখতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে দেশটির শীর্ষ দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। চলতি…
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল: ২৫ এপ্রিল শনিবার অস্ট্রেলিয়া জুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, নীরবতা এবং গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে অ্যানজাক (ANZAC) ডে।
ভোরের প্রথম প্রহর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় নীরবতা পালন, প্রার্থনা, প্যারেড এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে স্মরণ করা হয় আত্মত্যাগী সেনাসদস্যদের। শহর থেকে শহরে, স্মৃতিস্তম্ভ থেকে কমিউনিটি প্রাঙ্গণ—সবখানেই ছিল শ্রদ্ধা আর স্মরণের আবহ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৫ সালের এই দিনে তুরস্কের গ্যালিপোলি উপদ্বীপে অবতরণ করে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের যৌথ বাহিনী—যা সংক্ষেপে অ্যানজাক নামে পরিচিত। তাদের লক্ষ্য ছিল কনস্টান্টিনোপল দখল করে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়া। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী তা সফল হয়নি। প্রবল প্রতিরোধ, কঠিন পরিস্থিতি এবং দীর্ঘ আট মাসের অচলাবস্থার পর সেই অভিযান শেষ হয় বিপুল প্রাণহানির মধ্য দিয়ে। তবুও গ্যালিপোলির সেই লড়াই ইতিহাসে এক গভীর ছাপ রেখে যায়, যা পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের জাতীয় চেতনার অংশ হয়ে ওঠে।

অ্যানজাক ডে প্যারেড: প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে যাচ্ছে আত্মত্যাগের ইতিহাস। ছবি: ওটিএন বাংলা
এই দিনে শুধু গ্যালিপোলির সৈন্যদের নয়, বরং সব যুদ্ধ ও শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়।
দেশজুড়ে আয়োজিত হয় মার্চপাস্ট ও বিভিন্ন স্মরণ অনুষ্ঠান। সাবেক ও বর্তমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশ নেন এই শ্রদ্ধা নিবেদনে। পরিবার-পরিজনসহ নানা বয়সী মানুষ উপস্থিত হয়ে স্মরণ করেন তাদের প্রিয়জনদের, যারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।
এই দিনে শুধু গ্যালিপোলির সৈন্যদের নয়, বরং সব যুদ্ধ, সংঘাত এবং শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকারী ও প্রাণ হারানো সেনা, নাবিক ও বিমান বাহিনীর সদস্যদেরও স্মরণ করা হয়।
ভিক্টোরিয়ার ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট এলাকায় প্যারেড শেষে চ্যানেল আই-এর সঙ্গে কথা বলেন ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান ভেটেরান গ্যারি। তিনি একসময় বিমান বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে দায়িত্ব পালন করেছেন। জীবনের সেই অভিজ্ঞতা আজও তাকে নাড়া দেয়। তাই তার কণ্ঠে শোনা যায় স্পষ্ট আহ্বান—“এই পৃথিবীতে আর কোনো যুদ্ধ নয়।”
তবে এ বছরের আয়োজনের একাংশে ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মেলবোর্নের অনুষ্ঠানে কিছু বিঘ্ন সৃষ্টিকারী আচরণকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জ্যাসিন্তা অ্যালান।

অ্যানজাক ডে স্মরণসভায় আদিবাসীদের বক্তব্য চলাকালে কটূক্তি, ঘটনার পর প্রতিক্রিয়ায় ভিক্টোরিয়া রাজ্যের প্রিমিয়ার জ্যাসিন্তা অ্যালান এটিকে “অত্যন্ত নিন্দনীয় আচরণ” হিসেবে উল্লেখ করেন। ছবি: সংগৃহীত
তিনি বলেন, “অ্যাকনলেজমেন্ট টু কান্ট্রি সম্মান প্রদর্শনের একটি অংশ। আর আজকের দিনটি সম্মানের দিন। এই ধরনের আচরণ সেই মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”
সবকিছুর পরও, অ্যানজ্যাক ডে অস্ট্রেলিয়ার মানুষের কাছে ঐক্য, স্মরণ এবং দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবেই রয়ে গেছে। প্রবীণ যোদ্ধা থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্ম—সবার কাছে এই দিনটি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au