২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: ২২ বছর পরও বিচারের অপেক্ষায় ভুক্তভোগীরা
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ২২ বছর পরও নিহতদের স্বজন ও হামলায় আহতরা প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের…
মেলবোর্ন, ২৬ এপ্রিল- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তোলা হৃদয়স্পর্শী ছবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়া কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই। ৮৩ বছর বয়সে ভারতের রাজধানী দিল্লি-তে ২৬ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ছয় দশকের কর্মজীবনে তিনি শুধু ছবি তোলেননি, বরং ইতিহাস, মানবিক সংকট এবং সময়ের গভীরতাকে ফ্রেমবন্দি করেছেন।
১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবির, যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবন এবং মানবিক বিপর্যয়ের যে চিত্র তিনি তুলে ধরেছিলেন, তা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অনাহার, ক্লান্তি, নিরাপত্তাহীনতা এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত লাখো মানুষের বাস্তবতা তার ছবিতে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এসব আলোকচিত্র শুধু শিল্প নয়, বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
রঘু রাইয়ের জন্ম ১৯৪২ সালের ডিসেম্বরে অবিভক্ত ভারতের ঝাং শহরে, যা বর্তমানে পাকিস্তানের অংশ। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তার পরিবার ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, তবে বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় মাত্র ২৩ বছর বয়সে ফটোগ্রাফির জগতে প্রবেশ করেন এবং দ্রুতই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও মানবিক সংবেদনশীলতার জন্য পরিচিতি পান।

ছবি : সংগৃহীত
১৯৬৬ সালে তিনি সাংবাদিক আলোকচিত্রী হিসেবে দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায় যোগ দেন এবং এক দশক সেখানে কাজ করেন। পরবর্তীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। তার কাজ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-সহ বিশ্বখ্যাত প্রকাশনায় স্থান পায়।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭২ সালে তিনি ভারতের অন্যতম সম্মানজনক পদ্মশ্রী পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯২ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে প্রকাশিত একটি ফটোস্টোরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ‘বর্ষসেরা ফটোগ্রাফার’ সম্মাননাও অর্জন করেন।

ছবি : সংগৃহীত
তার ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বিশ্বনেতা ইন্দিরা গান্ধী, আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা এবং মানবসেবায় নিবেদিত মাদার তেরেসা-র মতো ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম।
বিশ্লেষকদের মতে, রঘু রাইয়ের আলোকচিত্র শুধু নান্দনিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল সময়ের নির্মম সত্যের দলিল। বিশেষ করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তার তোলা ছবিগুলো ইতিহাসকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au