স্বামীকে শেষবিদায় জানিয়ে কারাগারে ফিরলেন দীপু মনি
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- স্বামীকে শেষবারের মতো বিদায় জানিয়ে আবার মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরেছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি।…
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও সহকর্মীরা। কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে তাঁদের মরদেহ। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চান দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত ও মা স্বপ্না দত্ত। ছেলের মৃত্যুতে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত দেবাশীষ, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের ভিড়। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনেরা বাড়িতে আসছেন।
তবে আট বছর বয়সী দেবাশীষের মেয়ে মহিমা দত্ত এখনো পুরো বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেনি। বাড়ির দ্বিতীয় তলার বারান্দায় প্রতিদিনের মতো খেলছিল সে। পরিচিত শিশুদের ডেকে বিকেলে তাদের বাড়িতে এসে একসঙ্গে খেলার কথাও বলছিল। বাবা আদর করে মহিমাকে ‘পাখি’ বলে ডাকতেন।
পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা দেবাশীষের সহকর্মী ও স্টার নিউজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জানান, ভারতে অবস্থানরত চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দীর মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছেন, কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ বর্তমানে কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।
মরদেহ শনাক্তকরণ এবং ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমতিপত্রের প্রক্রিয়া চলছে। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর ময়নাতদন্ত করা হবে।
জহুরুল ইসলাম বলেন, কলকাতা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে দেবাশীষসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এদিকে ভারতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন দেবাশীষের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীরা।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন ও ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ওই ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন, দুই বছর বয়সী ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আকরাম আলী।
দেবাশীষের বয়স ছিল ৩৭ বছর, তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিনের ২৫ বছর, ছেলে শর্ণশীষের বয়স দুই বছর এবং শ্বশুর আকরাম আলীর বয়স ৬৪ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান দেবাশীষ। প্রথমে তাঁরা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। প্রায় ১৩ দিন পর সোমবার রাতে কলকাতায় যান। মঙ্গলবার দিনভর আত্মীয়স্বজনের জন্য কেনাকাটা করেন তাঁরা। পরদিন বুধবার তাঁদের বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়।
দেবাশীষের আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীরা বলছেন, কর্মজীবনে তিনি নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখন তাঁর পরিবারসহ চারজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au