যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই চার প্রেসিডেন্ট হত্যার শিকার হয়েছিলেন। সংগৃহীত ছবি
মেলবোর্ন, ২৬ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের নিরাপত্তায় বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সংস্থা সিক্রেট সার্ভিস নিয়োজিত থাকলেও ইতিহাস বলছে, একাধিক প্রেসিডেন্ট প্রাণ হারিয়েছেন আততায়ীর হাতে। সর্বশেষ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনার প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নিরাপত্তা ইস্যু।
মার্কিন ইতিহাস অনুযায়ী, চারজন প্রেসিডেন্ট সরাসরি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রথম ছিলেন আব্রাহাম লিঙ্কন। ১৮৬৫ সালে ওয়াশিংটন ডিসির ফোর্ডস থিয়েটারে নাটক দেখার সময় তাকে মাথার পেছন থেকে গুলি করা হয়। এই ঘটনাই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
এরপর ১৮৮১ সালে আততায়ীর গুলিতে আহত হন জেমস গারফিল্ড। ওয়াশিংটন ডিসির একটি রেলস্টেশনে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার এক মাস পর নিউ জার্সিতে তিনি মারা যান।
১৯০১ সালে নিউ ইয়র্কের বাফেলো শহরে এক জনসমাগমে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন উইলিয়াম ম্যাককিনলে। লিওন সিজলগোস নামের এক নৈরাজ্যবাদী তার ওপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে ওই হামলাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সবশেষ ১৯৬৩ সালে টেক্সাসের ডালাসে স্নাইপারের গুলিতে নিহত হন জন এফ কেনেডি। লি হার্ভে অসওয়াল্ড নামের এক ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যার ঘটনা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রেসিডেন্টদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা নতুন কিছু নয়। থিওডোর রুজভেল্ট, ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট থেকে শুরু করে জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা এবং সাম্প্রতিক সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প—অনেকেই বিভিন্ন সময়ে হামলার হুমকি বা প্রচেষ্টার মুখে পড়েছেন।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এসব ঘটনা প্রমাণ করে, রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সহিংসতা প্রতিরোধ করা সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থেকেছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য।