যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের তিন ধাপের প্রস্তাব
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে তিন ধাপের একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এই প্রস্তাব ইসলামাবাদ-এ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে…
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- মালিতে একাধিক সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠির সমন্বিত সশস্ত্র হামলার ঘটনায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার। একই ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যসহ আরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে। এই হামলাকে দেশটির সামরিক সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি মুখপাত্র ইসা ওসমানে কুলিবালি এক বিবৃতিতে জানান, শনিবার রাজধানী বামাকোর কাছাকাছি কাতি গ্যারিসন শহরে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাসভবনে হামলা চালানো হয়। সেখানেই তিনি নিহত হন।
সামরিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একই সময়ে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ) মিলে দেশের বিভিন্ন সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বামাকো, উত্তরাঞ্চলের গাও ও কিদাল এবং মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে কাতিতে। এটি বামাকো থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিক শহর হিসেবে পরিচিত। সেখানেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারার বাসভবনে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তার দুই নাতি-নাতনি নিহত হন। হামলার সময় পুরো এলাকা বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে।
একজন সামরিক বিশ্লেষকের মতে, কাতি অঞ্চল সাধারণত দেশের সবচেয়ে নিরাপদ স্থানগুলোর একটি হলেও সেখানে এই ধরনের হামলা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ব্যর্থতা নির্দেশ করে।
আল জাজিরার বিশ্লেষক নিকোলাস হাক বলেন, সাদিও কামারা সামরিক সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। ২০২০ ও ২০২১ সালের পরপর দুটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সামরিক শাসন ব্যবস্থায় তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছিলেন।
তিনি আরও বলেন, “তিনি ভবিষ্যতে মালি নেতৃত্বের সম্ভাব্য একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তার মৃত্যু সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা।” হাক জানান, হামলার সময় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তিনি জীবিত ও নিরাপদ আছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা মালি জুড়ে চলমান নিরাপত্তা সংকটকে আরও গভীর করেছে। বিশ্লেষক বুলামা বুকার্তি বলেছেন, আগামী দিনে আরও অঞ্চল দখল ও পাল্টা সংঘর্ষের ঘটনা বাড়তে পারে।
তার মতে, আগে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এখন সরকারবিরোধী অবস্থানে একত্রিত হয়ে কাজ করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই হামলার ঘটনায় আফ্রিকান ইউনিয়ন, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা বিষয়ক ব্যুরো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। তারা বেসামরিক ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে হামলার একদিন পরও কিদালসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au