বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর পিএসকে গুলি করে হত্যা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ মে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সদ্য নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে তিনজন ‘শুটার’কে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারীরা। ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরে এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দু’জনকে উত্তরপ্রদেশ থেকে এবং একজনকে বিহারের বক্সার এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের কলকাতায় এনে ভবানীভবনে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সোমবার (১১ মে) তাদের বারাসাত আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে একটি ইউপিআই লেনদেন। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার দিন ব্যবহৃত গাড়িটি বালি টোলপ্লাজা অতিক্রম করার সময় ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টোল পরিশোধ করা হয়েছিল। ওই ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত পৌঁছান এবং সেখানেই অভিযানে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার তিনজনই পেশাদার শুটার এবং তারা পূর্বেও একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তবে কার নির্দেশে তারা এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় এবং এর পেছনে কোনো বড় অপরাধচক্র জড়িত আছে কি না, তা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, অন্তত দেড় মাস আগে থেকেই এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নিসান মাইক্রা গাড়িটি ঝাড়খণ্ডে নিবন্ধিত ছিল। গাড়িটি ঘটনার দিন বালি টোলপ্লাজা হয়ে মধ্যমগ্রামে প্রবেশ করে। টোল পরিশোধের জন্য ব্যবহৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মালিককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট এলাকার মোবাইল কল ডাটা ও লোকেশন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় গাড়িতে করে যাওয়ার সময় চন্দ্রনাথ রথের পথরোধ করে হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একটি গাড়ি সামনে এসে দাঁড়ানোর পর মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন চন্দ্রনাথ রথ এবং তার গাড়িচালক। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যায় ব্যবহৃত গাড়ি ও মোটরসাইকেল শনাক্ত করা হয়। এরপর একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।
তদন্তকারীরা এখন যাচাই করছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা সরাসরি গুলি চালিয়েছে, নাকি তারা পুরো অপারেশনে সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করেছে।
চন্দ্রনাথ রথ ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। স্বেচ্ছা অবসরের পর তিনি করপোরেট খাতে যুক্ত হন। পরে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত হন এবং ২০২১ সালে তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান। পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতার এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।