নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ১২ মে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজন মার্কিন নাগরিকের একজন বিশ্বাস করেন, ট্রাম্পের ওপর হামলার ঘটনাগুলো আসলে সাজানো নাটক ছিল। জরিপটি দেশটির রাজনৈতিক বিভাজন, গণমাধ্যমের প্রতি অনাস্থা এবং ষড়যন্ত্রতত্ত্বের বিস্তারকে নতুন করে সামনে এনেছে।
অনলাইন তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান নিউজগার্ডের প্রকাশিত জরিপে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনারে ঘটে যাওয়া গুলিবর্ষণের ঘটনাকে ২৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ‘ভুয়া’ বা সাজানো বলে মনে করেন। বিপরীতে ৪৫ শতাংশ নাগরিক বিশ্বাস করেন ঘটনাটি বাস্তব ছিল। আর ৩২ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।
জরিপ অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মতপার্থক্য স্পষ্ট। প্রতি তিনজন ডেমোক্র্যাট সমর্থকের একজন মনে করেন হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছিল। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে এমন বিশ্বাস পোষণ করেন প্রতি আটজনের একজন।
বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ঘটনাকে সাজানো মনে করার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্রতত্ত্ব তরুণদের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি সন্দেহভাজন বন্দুকধারী কোল টমাস অ্যালেনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাসহ চারটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ গঠন করে।
ঘটনার পরপরই অনলাইনে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন নিজেই রিপাবলিকান পার্টির জনসমর্থন বাড়ানোর জন্য হামলার নাটক সাজিয়েছে। যদিও এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নিউজগার্ডের সম্পাদক সোফিয়া রুবিনসন বলেন, “এই ফলাফল অত্যন্ত বিস্ময়কর। এটি স্পষ্ট করে যে সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের আস্থা অনেকটাই কমে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক, সব পক্ষের মানুষই এখন প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতি সন্দিহান হয়ে উঠছেন। অনেকেই যাচাই-বাছাই ছাড়া অনলাইনের তথ্য সহজেই বিশ্বাস করছেন।”
হোয়াইট হাউস অবশ্য এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত এপ্রিলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, “যারা মনে করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের ওপর হামলার নাটক সাজিয়েছেন, তারা আসলে বোকামি করছেন।”
বোস্টন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং গণমাধ্যম গবেষক জোয়ান ডনোভান বলেন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক আচরণ ও উপস্থাপনা অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে ‘শোম্যানশিপ’-এর মতো মনে হয়। ফলে কিছু মানুষ সহজেই ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাস করতে শুরু করেন।
তিনি বলেন, “অনেকের কাছে পুরো ঘটনাটি হলিউড সিনেমার মতো মনে হয়েছে। এখন রাজনীতি অনেকটাই রিয়েলিটি টিভি শোর রূপ নিয়েছে।”
২০২৪ সালে ট্রাম্পের ওপর আরও দুটি হামলার চেষ্টা হয়েছিল। একটি পেনসিলভানিয়ার বাটলারে জনসভায় এবং অন্যটি ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ ক্লাবে। তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো হামলাই সাজানো ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জরিপে দেখা গেছে, পেনসিলভানিয়ার ঘটনার ক্ষেত্রে ২৪ শতাংশ নাগরিক এটিকে সাজানো বলে মনে করেন। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের ৪২ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মাত্র ৭ শতাংশ একই মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে গলফ ক্লাবের হামলাকে সাজানো মনে করেন ১৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। এর মধ্যে ২৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৭ শতাংশ রিপাবলিকান রয়েছেন।
সব মিলিয়ে ২১ শতাংশ ডেমোক্র্যাট সমর্থক বিশ্বাস করেন, ট্রাম্পের ওপর হওয়া তিনটি হামলাই সাজানো ছিল। বিপরীতে স্বতন্ত্র ভোটারদের ১১ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মাত্র ৩ শতাংশ এমন ধারণা পোষণ করেন।
অনলাইন উগ্রবাদ পর্যবেক্ষক গ্রুপ ‘ওপেন মেজারস’-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক জ্যারেড হোল্ট বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এখন রাজনীতির অংশ হয়ে গেছে। মানুষের একটি বড় অংশের কাছে এটি এখন প্রায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা যত বাড়ছে, ততই ষড়যন্ত্রতত্ত্ব সমাজে গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au