নিহত ওয়ারেন্ট অফিসার ক্লাস টু লকলান মাডল।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ মে- অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ উপকূলীয় জারভিস বে এয়ারফিল্ডে সামরিক প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় এক অভিজ্ঞ প্যারাট্রুপার নিহত হয়েছেন। নিহত সেনা সদস্যের নাম ওয়ারেন্ট অফিসার ক্লাস টু লকলান মাডল। তার বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। তিনি অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী ‘স্পেশাল এয়ার সার্ভিস রেজিমেন্ট’-এর সদস্য ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৫টা ৪০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশিক্ষণ চলাকালে আকাশে আরেক প্যারাট্রুপারের সঙ্গে সংঘর্ষের পর লকলান মাডল মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ান আর্মি স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল গার্থ গুল্ড জানান, ওই সময় বিশেষ ধরনের প্যারাশুট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া দুই সেনা সদস্য সফলভাবে প্যারাশুট খুলেছিলেন। তবে অবতরণের নির্ধারিত স্থানের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় কয়েকশ ফুট ওপরে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
তার ভাষায়, “দুই প্যারাট্রুপার অবতরণ অঞ্চলের দিকে যাওয়ার সময় মাঝ আকাশে একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খান। এরপর তারা উঁচু স্থান থেকে নিচে পড়ে যান।”
দুর্ঘটনায় আরেক সেনা সদস্য অল্প আঘাত নিয়ে বেঁচে গেছেন।তিনি অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্স প্যারাশুট স্কুলের একজন সার্জেন্ট।
মেজর জেনারেল গার্থ গুল্ড বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত দুই সেনাই অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্যারাট্রুপার ছিলেন। তাদের দু’জনের সম্মিলিতভাবে কয়েক হাজার প্যারাশুট জাম্পের অভিজ্ঞতা ছিল।
তিনি বলেন, “দু’জনই অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ছিলেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।”
লকলান মাডল ১৯৯৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের অধীন স্পেশাল এয়ার সার্ভিস রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করেন।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তিনি একজন উচ্চ প্রশিক্ষিত বিশেষ বাহিনীর স্নাইপার এবং সামরিক ফ্রি-ফল প্যারাশুট বিশেষজ্ঞ ছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ও দক্ষ পেশাদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মেজর জেনারেল গুল্ড বলেন, “তিনি ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত একজন সেনা কর্মকর্তা। তার রসবোধ, দায়িত্ববোধ এবং দেশের প্রতি গভীর অঙ্গীকার সবাইকে মুগ্ধ করত।”
লকলান মাডলের মৃত্যু সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বর্তমানে তার পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মেজর জেনারেল গুল্ড বলেন, “এই মৃত্যু আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো তার পরিবারকে সহায়তা করা এবং দুর্ঘটনায় জড়িত সেনা সদস্যদের পাশে দাঁড়ানো।”
দুর্ঘটনার পরপরই অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনী সব ধরনের প্যারাশুট কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় আলো স্বল্প ছিল এবং প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সদস্যরা নাইট ভিশন গগলস ব্যবহার করছিলেন।
মেজর জেনারেল গুল্ড বলেন, “ঘটনার কারণ জানতে একাধিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”
অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনীতে গত দুই বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় প্যারাশুট-সংক্রান্ত মৃত্যু। এর আগে ২০২৪ সালে সিডনির রিচমন্ড রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণের সময় আহত হয়ে মারা যান ল্যান্স করপোরাল জ্যাক ফিটজগিবন।
সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার সামরিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ