পশ্চিমবঙ্গে সরকারি অনুমতি ছাড়া পশু জবাই নিষিদ্ধ
মেলবোর্ন, ১৪ মে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রকাশ্যে পশু জবাই সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গরু, মহিষসহ বিভিন্ন গবাদিপশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ…
মেলবোর্ন, ১৪ মে- বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা থেকে নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নামও কয়েকটি মামলায় যুক্ত হয়।
সাক্ষাৎকারে সাকিব দাবি করেন, একটি পক্ষ তার কাছে যোগাযোগ করে জানায় যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে তিনি মনে করেন, যারা এমন প্রস্তাব দিয়েছে, তাদের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই।
সাকিব বলেন, “বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা বলছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম উঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই ঠিক হবে আমার সম্পৃক্ততা ছিল কি না।”
কারা তার কাছে এ প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এফআইআরের বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যে ব্যক্তির নাম উল্লেখ ছিল, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছে দেন। যদিও কার মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি।
প্রস্তাব পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়ার কথাও জানান সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, “এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো।”
দেশে ফেরা নিয়ে নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন সাকিব। তিনি জানান, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে মনে করলেও দুটি বিষয় তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং অন্যটি দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
তিনি বলেন, “আমি চাই স্বাভাবিক একটা নিরাপত্তা এবং দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক। এ দুটি বিষয় আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা না ওঠানো পর্যন্ত আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।”
তবে গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তার নেই বলেও উল্লেখ করেন সাকিব। তার আশঙ্কা মূলত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণ ঘিরে। তিনি বলেন, “মব হতে পারে, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেও কিছু হতে পারে। অন্তত এমন একটা জায়গা তো থাকা উচিত, যেখানে বিপদ হলে কেউ দায়িত্ব নেবে।”
জাতীয় দলে না খেলতে পারা নিয়েও আক্ষেপের কথা জানান তিনি। সাকিবের বিশ্বাস, এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো সামর্থ্য তার রয়েছে। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে দলকে অবদান রাখার সুযোগ তিনি দেখছেন।
২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে আবার নিজেকে প্রস্তুত করতে চান। কয়েকটি সিরিজ খেলতে পারলে তখন নিজের অবস্থান এবং দলের চাহিদা দুটোই বোঝা যাবে বলে মনে করেন তিনি।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন সাকিব। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়। আজ যেটিকে ভুল মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে সেটিকেই সঠিক মনে হতে পারে।
সাকিব বলেন, “মানুষ বারবার ভুলে যায় যে, আমি একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন বলেই আমি জিতেছি। তারা যদি ভোট না দিতেন, আমি জিততাম না। সারা দেশের মানুষ তো আমাকে ভোট দেননি।”
সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, দেশের মানুষ রাজনীতিকে নেতিবাচকভাবে দেখে, কারণ অনেকেই সেবা করার বদলে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজনীতিতে আসেন। তবে রাজনীতির মাধ্যমেই পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au