অভিযুক্ত আসমা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ মে- শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় জিয়া উদ্দিন সরদার নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ টুকরা করে নদী ও ডোবায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগে স্ত্রী আসমা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী জিয়া উদ্দিনকে হত্যা করেন আসমা আক্তার। পরে মরদেহ টুকরা করে হাত-পা আলাদা করেন এবং মাংস কেটে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। কিছু অংশ পদ্মা নদীতে এবং কিছু অংশ সড়কের পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহের কিছু অংশ একটি ড্রামে ভরে অন্য একটি বাসার ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন দিলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, শুক্রবার রাতে আসমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ডোবা থেকে নিহতের মাথাসহ বিভিন্ন হাড় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি ও লোহার রডও জব্দ করেছে পুলিশ।
নিহত জিয়া উদ্দিন সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকার আবদুর রাজ্জাক সরদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। প্রায় আট বছর আগে পিরোজপুরের মেয়ে আসমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে জিয়া ও আসমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তখন দুজনেই আলাদা সংসারে ছিলেন এবং উভয়েরই দুটি করে সন্তান ছিল। পরে আগের সংসার ছেড়ে তাঁরা একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন। গত বছরের মে মাসে জিয়া মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। এরপর থেকে তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ ও ঝগড়া চলছিল বলে জানা গেছে।
নিহতের চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিবারের সঙ্গে আসমার তেমন যোগাযোগ ছিল না। দেশে ফেরার পর জিয়া পাশের গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। কোরবানির ঈদের পর আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। তার আগেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।