আফগানিস্তানের একটি গ্রামীণ বাড়িতে বিয়ের অপেক্ষায় থাকা ৪০ বছর বয়সী ফয়েজ মোহাম্মদ ও ১১ বছর বয়সী গুলাম হায়দার। ছবি: জাতিসংঘ
মেলবোর্ন, ২৩ মে- আফগানিস্তানে বাল্যবিবাহকে কার্যত আইনি স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে তালেবান সরকার। নতুন এক বিবাহবিচ্ছেদ আইনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও জোরপূর্বক বিয়ের শিকার মেয়েদের বিচ্ছেদের অধিকার আরও সীমিত করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান সরকারের অনুমোদিত নতুন আইনে স্বামীর আপত্তি থাকলে কোনো নারী জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগ তুলে সহজে বিচ্ছেদ চাইতে পারবেন না। একইসঙ্গে স্বামীর আর্থিক সহায়তা না পাওয়া বা দীর্ঘ অনুপস্থিতিকেও বিচ্ছেদের যথেষ্ট কারণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই বাল্যবিবাহ বেড়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনানুষ্ঠানিক এক জরিপে দেখা গেছে, তালেবান শাসনামলে প্রায় ৭০ শতাংশ মেয়েকে অল্প বয়সে বা জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে।
রাজধানী কাবুলে নতুন আইনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নারীদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন নারী অধিকার সংগঠন এই আইনকে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে ‘প্রাতিষ্ঠানিক সহিংসতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মানবাধিকারকর্মী ফাতিমা বলেন, তালেবান এখন নারীবিরোধী নীতিগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে স্থায়ী রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, এটি নারী স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের ওপর সরাসরি আঘাত।
এদিকে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন ইউএনএএমএও নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এই আইন আফগান নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার আরও সংকুচিত করবে এবং বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।
তবে তালেবান সরকার এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তালেবানের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ইস্যু নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, নতুন এই আইন কার্যকর হলে আফগানিস্তানে নারী অধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে এবং বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েদের জন্য ন্যায়বিচারের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সুত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান