শিবির কর্মীর ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫মে- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারী শিক্ষার্থীকে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর ভাষায় হেনস্তার অভিযোগে এক ছাত্রশিবিরকর্মীকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ক্যাম্পাসজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও চাকসু নেতারা জড়িত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম আলী আহসান মোজাহিদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
জানা গেছে, শনিবার ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে শামসুন নাহার হল ও হল সংসদ নিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে রুমি নামে এক নারী শিক্ষার্থী মন্তব্য করলে একটি বেনামি আইডি থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় মন্তব্য করা হয়। ওই মন্তব্যে নারী শিক্ষার্থীকে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে আক্রমণ করা হয়।
পরে খোঁজ নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানতে পারেন, বেনামি ওই আইডির পেছনে ছিলেন আলী আহসান মোজাহিদ। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি মোজাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাকে এ ধরনের মন্তব্য করতে ‘লেলিয়ে’ দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই নারী শিক্ষার্থীর কাছে ক্ষমাও চান তিনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রুমি বলেন, যিনি তাকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করেছেন, তাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন এবং ছোট ভাই হিসেবেই দেখতেন। তার ভাষায়, “আমরা একসঙ্গে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি। সে নিজেই বহুবার দাবি করেছে যে, সে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেনামি বা বট আইডি ব্যবহার করে নিয়মিত নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। গ্রুপ পরিচালকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসব হয়রানিমূলক আইডির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রনেতা ও সংগঠনের পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়। ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “দুই দিন আগেও যিনি ‘আদর্শে শিবির, সংগ্রামে শিবির’ স্লোগান দিচ্ছিলেন, আজ তিনিই একজন নারী শিক্ষার্থীকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেছেন।”
চাকসুর ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক বলেন, “নারীদের নিয়ে বুলিং ও বিদ্বেষমূলক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দল-মত নির্বিশেষে এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিকও ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এ ধরনের ভাষা ও আচরণ একটি সংগঠনের প্রকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। আমরা জানতে চাই, কারা তাকে এ কাজে উসকানি দিয়েছে।”
অন্যদিকে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নারী শিক্ষার্থীকে হয়রানি বা বুলিংয়ের ঘটনা সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে চাকসুর লিগ্যাল এইড সেলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।