বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
মেলবোর্ন, ২৭ মে- ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যা নিয়ে নতুন…
মেলবোর্ন, ২৫ মে- গত ডিসেম্বরে একটা লেখায় লিখেছিলাম, “অভাগা দীপু চন্দ্র দাশের ঘটনাটিও একই সূত্রে গাঁথা। এই লোমহর্ষক ঘটনাটিও আগামীতে ঘটতে যাওয়া আরও বহু লোমহর্ষক ঘটনাকে নরমালাইজ করার প্রচেষ্টা কেবল।”
কী মনে হচ্ছে এখন? চাইল্ড রেইপ বাংলাদেশে খুব স্বাভাবিক ঘটনা না এখন? অন্তত কয়েক ডজন শিশুর নাম নেওয়া যেতে পারে। বীভৎস ঘটনাগুলোও খুব একটা নাড়া দিচ্ছে না আপনাকে? আদতে আপনি কালেক্টিভ অ্যামনেশিয়াগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। কেবল কিছু সিলেক্টিভ মেমোরি আপনি মনে রাখতে চাইছেন। ভদ্রলোকদের এটা এক ধরনের সারভাইভাল মেকানিজম। অথচ মনে করে দেখুন, ১৯৯৫ সালে পুলিশ হেফাজতে শিশু ইয়াসমীনের ওপর পাশবিক অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ডের কথা মানুষ অন্তত এক দশক ধরে মনে রেখেছে, বিচারের দাবি করেছে। ১৯৯৩ সালে স্ত্রী হত্যার দায়ে মুনীরের ফাঁসি মধ্যবিত্তের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বহুদিন।
আমার নিচের কথাটি পাগলের প্রলাপ মনে হতে পারে। কিন্তু ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট, ৫ আগস্ট, BDR হত্যাকাণ্ড, ব্লগার হত্যা, হোলি আর্টিজান তথা জঙ্গিবাদের উত্থান, ব্যাকডোরের ছল-কপটের রাজনীতি দিয়ে ক্ষমতা দখল, ৫ আগস্টের পরে বর্বরোচিত উপায়ে পুলিশ হত্যা, কারাগার থেকে শত শত আসামির পালানো, থানার অস্ত্রলুট, গণভবনের বৃদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্বাস নিয়ে মজা করা, দফায় দফায় ৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙা, অধুনা মববাজি, মাজার ভাঙচুর, বাউলের প্রতি সহিংসতা, গত এক দশকে অন্তত এক ডজন হিন্দু শিক্ষককে ধর্ম অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা, পশ্চিমে মমতা ব্যানার্জির এমন গোহারা, আর পূর্বে জামায়াতিদের এহেন আস্ফালন, হামে শত শত শিশু হত্যা, আর এখন হঠাৎ করেই বাংলাদেশে নারী ও শিশুর প্রতি বীভৎসতা বেড়ে যাওয়া—সব এক সূত্রে গাঁথা।
একটি দেশ রক্তক্ষয়ী গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন করে তা টিকিয়ে রাখা এত সহজ নয়। আমরা শুরুতেই হোঁচট খেয়েছিলাম ১৯৭৫ সালে। বাংলাদেশে ব্যাকডোরের রাজনীতি, মোল্লা-মিলিটারির রাজনীতির সূচনা করাই হয়েছে জাতিকে অ্যামনেশিয়াগ্রস্ত করার জন্য। ক্রীড়নক সেই পুরোনো। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে পোস্টার নিয়ে দাঁড়াতে প্রবাসে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই গিয়েছিল, একমাত্র আমি বাদে। একই কারণে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট যখন আপনারা বিজয়ের আনন্দ করছিলেন, আমি তখন ফেসবুকে ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট দিয়ে বেড়াচ্ছিলাম। মহাজনের কথা আর না বলি। আপনারা আবারও আশায় বুক বাঁধলেন ১২ ফেব্রুয়ারিতে। বাংলাদেশ নাকি পথ হারাবে না? Smirk-এর সঠিক বাংলা কী? Perhaps I smirked then!
অচিরেই এক বা দুই দশকের মাঝে বাংলাদেশে মোরাল পুলিশিং দেখতে পেলে অবাক হবেন না। লতা সমাদ্দারকে মনে আছে? রাস্তাঘাটে আমরা অনেক লতা সমাদ্দার দেখতে পাব সামনে। মঞ্চ প্রস্তুত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতিমধ্যেই ছাপড়িদের দখলে চলে গেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৯০ বিলিয়ন থেকে ৪৫০ বিলিয়নের অর্থনৈতিক অর্জনই নিকট ভবিষ্যতে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হয়ে থেকে যাবে। খুব নিকটেই তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও শিক্ষা ইনঅ্যাক্সেসিবল হয়ে যাবে। বিশেষত নারী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বাড়বে, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ কমবে। এরকম চলমান বীভৎসতায় ভদ্রলোকের বেঁচে থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হবে ভুলে যাওয়া, অ্যামনেশিয়াগ্রস্ত হয়ে পড়া।
উদ্দেশ্য একটাই—অ্যামনেশিয়াগ্রস্ত জাতিকে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীল ও অধীন করে রাখা যায়।

দীপ্র সাহার মতামত। ছবিঃ সংগৃহীত
লেখক- দীপ্র সাহা, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট, যুক্তরাষ্ট্র।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au