মেলবোর্ন, ২৫ মে- মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি এই অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদী হয়েছেন। তার দাবি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আলোচনায় “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হলেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য সফররত রুবিও আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই ইতিবাচক ঘোষণা আসতে পারে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরান প্রতিশ্রুতি দিতে পারে যে তারা আর পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না। একই সঙ্গে দেশটি তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদও পরিত্যাগে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় নির্ধারণ হবে কীভাবে ইরান এই ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কিছু ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধকরণ মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে, সম্ভবত রাশিয়ায় স্থানান্তর করা হতে পারে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ’র তথ্যমতে, বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি অস্ত্র-মানের ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণের খুব কাছাকাছি অবস্থান।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল করতে পারে। এর অংশ হিসেবে তেল রপ্তানির অনুমতি এবং জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি মার্কিন নৌ অবরোধ শিথিল হলে হরমুজ প্রণালিও ধীরে ধীরে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েল ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে এখনো বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা বজায় রাখবে।
ইসরায়েলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে “অপেক্ষা করো, দেখো” নীতি অনুসরণ করছে তেলআবিব। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে ফেলতে হবে এবং সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নিতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না।
সূত্র : সিএনএন