গণহারে পাকিস্তানিদের বহিষ্কার করে ফেরত পাঠাচ্ছে আমিরাত । ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ মে- মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করে দেশে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বহিষ্কৃতদের অনেকেই জানিয়েছেন, বছরের পর বছর আমিরাতে কাজ করার পর হঠাৎ আটক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরে জোরপূর্বক দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বার্তাসংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি শতাধিক পাকিস্তানি শিয়া মুসলিম নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তাদের অভিযোগ, চাকরি হারানোর পাশাপাশি তারা নিজেদের সঞ্চিত অর্থ, ব্যক্তিগত মালপত্র ও ব্যবসায়িক সম্পদ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।
পাকিস্তানের শিয়া রাজনৈতিক সংগঠন মজলিশ ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রায় সাত হাজার ৫০০ পাকিস্তানি শিয়াকে আমিরাত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র মহসিন আবিদি দাবি করেছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
শিয়া নেতাদের অভিযোগ, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত তীব্র হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ে এবং এরপর থেকেই বহিষ্কারের ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। বিশেষ করে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
তবে ঠিক কোন অভিযোগ বা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানিদের বহিষ্কার করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বহিষ্কার করা হয়নি। বরং আমিরাতের আইন লঙ্ঘনের কারণেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিষয়টি সরকার নীরবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়নি।
বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ পাকিস্তানি নাগরিক সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস ও কাজ করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স পাকিস্তানের অর্থনীতির অন্যতম বড় ভিত্তি। বছরে ৬০০ কোটির বেশি মার্কিন ডলার দেশে পাঠান প্রবাসী পাকিস্তানিরা। ফলে বড় আকারে বহিষ্কারের এই ঘটনায় পাকিস্তানের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স