ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র
মেলবোর্ন, ২৮ মে- ইরানের কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একটি সামরিক স্থাপনায় আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার মধ্য দিয়ে…
মেলবোর্ন, ২৮ মে- ইউরোপের নিরাপত্তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে এবার ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নরওয়ে। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোতে থাকা দেশটি এবার ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার (২৭ মে, ২০২৬) প্যারিসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরের মধ্যে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় নরওয়ে ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধ কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হবে। এই ব্যবস্থাকে ফ্রান্সের ‘ফরোয়ার্ড নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স’ বলা হয়, যা ইউরোপীয় অংশীদার দেশগুলোর জন্য পারমাণবিক নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি উদ্যোগ।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরে বলেন, দেশটির প্রধান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এখনো উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। তবে তিনি ফ্রান্সের পারমাণবিক সক্ষমতাকে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ইউরোপের নিরাপত্তা ও ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনা, ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নরওয়ে ন্যাটো সদস্য হলেও দেশটির রাশিয়ার সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে সরাসরি সীমান্ত রয়েছে, যা তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়া ফ্রান্সের পারমাণবিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। নরওয়ে সেই তালিকায় সর্বশেষ দেশ হিসেবে যুক্ত হলো। এছাড়া ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন স্তরে অংশ নিচ্ছে।
তবে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দেশের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতি অপরিবর্তিত থাকবে এবং শান্তিকালে নরওয়ের ভূখণ্ডে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন বা সংরক্ষণ করা হবে না।
উল্লেখ্য, ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কাছে পাঁচ হাজারেরও বেশি ওয়ারহেড রয়েছে। এর পর চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য তুলনামূলকভাবে ছোট পরিসরে পারমাণবিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au