নিজ এলাকার জন্য রাজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন আসিফ-হাসনাত
মেলবোর্ন, ৩১ মে- কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক…
মেলবোর্ন, ৩০ মে- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি আবারও দেশে ফিরবেন? সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য, ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত অডিও বার্তা নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। তবে বাস্তবতা বলছে, তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথ মোটেও সহজ নয়; বরং আইনি, কূটনৈতিক এবং ভূরাজনৈতিক জটিলতায় পরিপূর্ণ।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে, যখন পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। শেখ হাসিনা এবং তাঁর সমর্থকরা শুরু থেকেই এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে জটিল আইনি ও কূটনৈতিক বাস্তবতা। সম্প্রতি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং আইনি কাঠামোর আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই। তিনি চাইলে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন; এতে কোনো আইনি বাধা নেই। তবে সরকার কোনো অনানুষ্ঠানিক বা বেআইনি পন্থা নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক উপায়ে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে চায়।”
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রত্যর্পণ করা কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয় নয়। এটি নির্ভর করে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, আন্তর্জাতিক আইন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিবেচনার ওপর। ফলে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার ওপর।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলের কিছু গুঞ্জনে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের কথা শোনা গেলেও অধিকাংশ পর্যবেক্ষক এসব সময়সীমাকে নিছক অনুমান হিসেবেই দেখছেন। কারণ, একটি মৌলিক প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে: প্রায় দুই হাজার ছাত্র ও সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর অভিযোগে অভিযুক্ত এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন সাবেক সরকারপ্রধান কীভাবে এমন একটি দেশে ফিরে আসবেন, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারিক রায় কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমাও ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে। ফলে তাঁর আইনি বিকল্পগুলোও ক্রমশ সীমিত হয়ে আসছে।
তবে শেখ হাসিনার দৃঢ় প্রত্যাবর্তনের বার্তার বিপরীতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, তাঁর মা আগে থেকেই রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ঘটনাকে এক অর্থে “হাসিনা যুগের সমাপ্তি” হিসেবেও উল্লেখ করেন।
এই মন্তব্য এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আলোচনা ইঙ্গিত দেয় যে শেখ হাসিনার সরাসরি রাজনৈতিক নেতৃত্বে ফিরে আসার সম্ভাবনা বর্তমানে অত্যন্ত ক্ষীণ।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বর বলে দাবি করা বিভিন্ন অডিও বার্তা নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে। অনেকের মতে, এগুলোর উদ্দেশ্য দলীয় তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয় ও অনুপ্রাণিত রাখা। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন অত্যন্ত সহজেই কারও কণ্ঠস্বর নকল করা সম্ভব। ফলে এসব অডিওর সত্যতা যাচাই করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ যেন তিনটি বাস্তবতার মাঝখানে আটকে আছে—নির্বাসন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক সমীকরণ। তিনি দ্রুত দেশে ফিরতে চান বলে বিভিন্ন সময়ে ইঙ্গিত দিলেও বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সরকারের কঠোর আইনি অবস্থান সেই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
ফলে বলা যায়, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা যতটা বাস্তব তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে আছে জল্পনা, কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং রাজনৈতিক অনুমান। এই উচ্চঝুঁকির ভূরাজনৈতিক খেলায় এখনো নিশ্চিত উত্তর অপেক্ষমাণ। আসিফ শওকত কল্লোল: জার্মানি-ভিত্তিক অনলাইন আউটলেট ‘দি মিরর এশিয়া’-তে হেড অফ নিউজ হিসেবে কর্মরত এবং প্রেসেনজা-ঢাকা ব্যুরোর একজন কন্ট্রিবিউটর। সম্পাদকের নোট: এটি একটি মতামতধর্মী/বিশ্লেষণমূলক কলাম। এখানে উত্থাপিত কিছু দাবি, বিশেষ করে বিচারিক রায়, হতাহতের সংখ্যা ও রাজনৈতিক পূর্বাভাস সম্পর্কিত বিষয়গুলো লেখকের বিশ্লেষণ ও উপলব্ধির অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au