নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই:কাদায় চাপা পড়েছে সব, ভেঙেছে ছাদও
নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের শেষ…
মেলবোর্ন, ৩১ মে- অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলাকে ঘিরে চলমান রয়্যাল কমিশনের তদন্তে সন্ত্রাসবিরোধী তহবিল ও নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত গোপন মন্ত্রিসভার নথি প্রকাশ না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল মিশেল রোল্যান্ড।
ইহুদিবিদ্বেষ ও সামাজিক সংহতি বিষয়ক রয়্যাল কমিশন বর্তমানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংঘটিত বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলার আগে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে বরাদ্দ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে কমিশন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভার নথি চেয়েছিল। তবে ফেডারেল সরকার ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট ইমিউনিটি’ বা জনস্বার্থ সুরক্ষা দাবির আওতায় এসব নথি প্রকাশে আপত্তি জানিয়েছে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মিশেল রোল্যান্ড বলেন, মন্ত্রিসভার গোপন নথি প্রকাশ না করা অস্ট্রেলিয়ার আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি প্রতিষ্ঠিত প্রথা। তিনি দাবি করেন, সরকারের এই পদক্ষেপে নতুন বা ব্যতিক্রমী কিছু নেই। তার ভাষায়, ‘মন্ত্রিসভার গোপনীয়তা রক্ষা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত আইনি নীতি এবং এ ধরনের তথ্য সাধারণত আদালত বা রয়্যাল কমিশনের কার্যক্রমেও সুরক্ষিত রাখা হয়।’
তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রয়্যাল কমিশনের কমিশনার ভার্জিনিয়া বেলের হাতে রয়েছে। কমিশনার চাইলে নথিগুলো পর্যালোচনা করতে পারবেন এবং প্রয়োজন মনে করলে জনস্বার্থে সেগুলো প্রকাশও করতে পারবেন।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইওর মহাপরিচালক মাইক বার্গেস কমিশনে জমা দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী বা সরকার সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম থেকে সম্পদ সরিয়ে অন্য অগ্রাধিকারমূলক খাতে ব্যবহারের নির্দেশ দেয়নি। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার বিষয়ে তিনি অবগত নন।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালে লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য বরাদ্দ বরং বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা জোরদার করা হয়েছে।
তবে বিরোধী জোটের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জনাথন ডুনিয়াম সরকারের এই অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, সরকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরিবর্তে নিজেদের সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা জনসমালোচনা থেকে আড়াল করতে চাইছে। তিনি বলেন, ‘রয়্যাল কমিশনের উচিত সন্ত্রাসবিরোধী অর্থায়ন, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পর্যালোচনা করা। সরকারের এই আপত্তি জনস্বার্থ রক্ষার চেয়ে নিজেদের জবাবদিহি এড়ানোর প্রচেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে।’
বন্ডাই হামলার আগে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পর্যাপ্ত সহায়তা পেয়েছিল কি না, তা এখন রয়্যাল কমিশনের তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। কমিশনার ভার্জিনিয়া বেল সরকারের আপত্তি গ্রহণ করবেন নাকি নথি প্রকাশের অনুমতি দেবেন, সেই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে তদন্তের পরবর্তী ধাপ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au