এক ইনজেকশনেই নির্মূল হবে ক্যানসারের টিউমার
মেলবোর্ন, ১ জুন- ক্যানসার চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নতুন একটি পরীক্ষামূলক ইনজেকশন। আন্তর্জাতিক এক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, ‘অ্যামিভান্টাম্যাব’ নামের এই ওষুধ কিছু…
মেলবোর্ন, ৩১ মে- ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে অবস্থিত ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়লে অন্তত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০০ থেকে ১৫০ জন পর্যন্ত মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
পুলিশ, দমকল বিভাগ এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে ভবনটি ধসে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ভবনটি কংক্রিট, লোহার বিম ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপে পরিণত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই চারদিকে ধুলোর বিশাল মেঘ ছড়িয়ে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অসংখ্য মানুষের চিৎকার শোনা যায়।
ধসে পড়া ভবনটিতে একটি মেডিকেল কোচিং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ক্যাফে, করপোরেট অফিস এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছিল। এছাড়া ভবনের তৃতীয় তলায় সংস্কার ও নির্মাণকাজ চলছিল বলে জানা গেছে।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভবনটি ভেঙে পাশের একটি অস্থায়ী টিনশেড ক্যান্টিনের ওপর পড়ে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে বহু শিক্ষার্থী রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন নীলম যাদব নামে এক মেডিকেল শিক্ষার্থী। সম্প্রতি বিদেশ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে দেশে ফিরে তিনি স্নাতকোত্তর ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার বাবা বলবন্ত যাদব জানান, দুর্ঘটনার সময় ক্যান্টিনে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। নীলমের পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা যৌথভাবে কাজ করছেন। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি, জেসিবি খননযন্ত্র, হাইড্রোলিক কাটার এবং বিশেষ অনুসন্ধানী ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুরও মোতায়েন করা হয়েছে।
দক্ষিণ দিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার অনন্ত মিত্তল জানিয়েছেন, ভবন ধসের খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তিনি বলেন, ভবনের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ধর্মবীর সিং বলেছেন, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহত ও আটকে পড়াদের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রশাসন ভবনটির মালিকানা, নির্মাণ অনুমোদন এবং নির্মাণগত কোনো ত্রুটি বা অবহেলা এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কি না, তা তদন্ত করে দেখবে।
দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত শিক্ষাকেন্দ্র এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা ভবন নির্মাণের নিরাপত্তা মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। উদ্ধারকর্মীরা রাতভর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au