এক ইনজেকশনেই নির্মূল হবে ক্যানসারের টিউমার
মেলবোর্ন, ১ জুন- ক্যানসার চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নতুন একটি পরীক্ষামূলক ইনজেকশন। আন্তর্জাতিক এক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, ‘অ্যামিভান্টাম্যাব’ নামের এই ওষুধ কিছু…
মেলবোর্ন, ১ জুন- অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটকে ঘিরে জনঅসন্তোষ দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দিয়েছে। নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রথমবারের মতো প্রাথমিক ভোটের হিসাবে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে ডানপন্থী ওয়ান নেশন পার্টি। এতে দেশটির প্রচলিত দুই দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এএফআর, রেডব্রিজ গ্রুপ এবং অ্যাকসেন্ট রিসার্চ পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে ওয়ান নেশনের প্রাথমিক ভোট বেড়ে ৩১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসের তুলনায় চার শতাংশ পয়েন্ট বেশি। বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির সমর্থন তিন শতাংশ পয়েন্ট কমে ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
জরিপ অনুযায়ী, প্রধান বিরোধী জোট কোয়ালিশনের অবস্থাও দুর্বল হয়েছে। দলটির প্রাথমিক ভোট ২২ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি হিসেবে পরিচিত ওয়ান নেশন এখন সরাসরি ক্ষমতাসীন লেবারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে।
রেডব্রিজ গ্রুপের পরিচালক কোস সামারাস বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মানুষ যে প্রচলিত দুই দলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা দেখে বড় হয়েছেন, সেটি এখন কার্যত ভেঙে পড়ছে। তাঁর মতে, ২০২৮ সালের নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি না বদলালে মূল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে লেবার ও ওয়ান নেশনের মধ্যে, আর কোয়ালিশন দর্শকের ভূমিকায় চলে যাবে।
গত ২৫ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত এক হাজার পাঁচজন ভোটারের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। এর আগে সরকার নতুন বাজেটে মূলধনী মুনাফা কর (ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স), নেগেটিভ গিয়ারিং এবং ট্রাস্ট-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি নীতিগত পরিবর্তন আনে। এসব সিদ্ধান্ত ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রেডব্রিজের আরেক পরিচালক টনি ব্যারি জানান, জরিপে অংশ নেওয়া ৬৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন অস্ট্রেলিয়া ভুল পথে এগোচ্ছে। তাঁর ভাষায়, বাজেটের প্রভাব এবং সুদের হার বৃদ্ধির কারণে লেবার সমর্থন হারালেও সেই ভোট সরাসরি কোয়ালিশনের ঝুলিতে যাচ্ছে না। বরং প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে বিকল্প শক্তির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।
তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। এর ফলে ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে নতুন কোনো শক্তির হাতেই সমাধান থাকতে পারে।
দুই দলভিত্তিক পছন্দের ভোটের (টু-পার্টি-প্রেফার্ড) হিসাবেও লেবারের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। আগের জরিপে ওয়ান নেশনের বিপক্ষে লেবারের অবস্থান ছিল ৫৫-৪৫ শতাংশ। সর্বশেষ জরিপে তা কমে ৫১-৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগামী নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দলের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যেতে পারে এবং আগামী ফেডারেল নির্বাচন হতে পারে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোর একটি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au