মেলবোর্ন, ১ জুন- দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হানওয়া অ্যারোস্পেসের একটি কারখানায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১ জুন) সকালে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় দেজিয়ন শহরে অবস্থিত কারখানাটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী সিউল থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত দেজিয়নের ওই কারখানায় সকাল ১১টার দিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের পর কারখানার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল ও অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা ছুটে যান।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রকেটের জ্বালানি তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি যন্ত্র পরিষ্কার করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। হানওয়া অ্যারোস্পেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন জায়েল বলেন, যন্ত্রের ভেতরে রয়ে যাওয়া বিস্ফোরক পদার্থ পরিষ্কারের সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন ও আরও জোরদার করা হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী হানওয়া অ্যারোস্পেস অস্ত্র, কামান ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এবং মহাকাশ গবেষণাসংক্রান্ত বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করে। দেজিয়নের কারখানাটি বিশেষ করে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রমের জন্য পরিচিত।
বিস্ফোরণের পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয় প্রকাশের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বুধবার অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রচারণার ধরনে পরিবর্তন এনেছে। বেশ কয়েকটি দল গান, নৃত্য এবং উৎসবমুখর প্রচার কর্মসূচি স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার দ্রুত সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও কঠোর মানদণ্ড প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি এই দুর্ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।