হামের ভয়াবহ বিস্তার, দেশে শিশু মৃত্যু বেড়ে ৫৮৮ ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ জুন- দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম। প্রাণঘাতী এই সংক্রামক রোগ এবং এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৯ শিশু। ফলে চলতি বছর দেশে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৮ জনে।
সোমবার (১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে সুনামগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহ জেলায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব মৃত্যু নিশ্চিত হাম নয়, হামের উপসর্গজনিত জটিলতার কারণে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এ সময়ে প্রাণ হারিয়েছে ৫৮৮ শিশু, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত আড়াই মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৭২ হাজার ৭০ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ হাজার ৯০২ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩ হাজার ৭২২ শিশু।
এ সময়ের মধ্যে ৯ হাজার ৯৪ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম রোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হওয়া ১ হাজার ১৭৯ শিশুর মধ্যে ৪৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ১ হাজার ১৩৪ শিশুর মধ্যে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা গেছে এবং তাদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। তারা দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।