মেলবোর্ন, ২ জুন- একুশ শতকের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ এখন আর সীমান্তে হয় না। এই যুদ্ধ হয় প্রকৃতির সঙ্গে, সময়ের সঙ্গে, বেঁচে থাকার জন্য। বিজ্ঞানীরা একে নাম দিয়েছেন “জলবায়ু যুদ্ধ”। এখানে বন্দুক-বোমা নেই, কিন্তু সমুদ্রের উচ্চতা, খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় আর খাদ্য সংকটই অস্ত্র। আর এই অস্ত্রের আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে বাংলাদেশের মতো নিম্নাঞ্চলীয়, ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলো।
বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন কোনো দূরের ভয় নয়। এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা। প্রতিবছর বন্যা কেড়ে নেয় ফসল, ঘূর্ণিঝড় ভেঙে দেয় ঘর, লবণাক্ততা নষ্ট করে মাটি, নদীভাঙন গিলে নেয় গ্রাম। অথচ বিশ্বের কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ০.৪৮ শতাংশ। ক্ষতি করছে ধনীরা, মূল্য দিচ্ছে গরিবরা। এটাই জলবায়ু ন্যায়বিচারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
১. জলবায়ু যুদ্ধের স্বরূপ
জলবায়ু যুদ্ধ বলতে বোঝায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সম্পদ সংকট, অভিবাসন, সংঘাত ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার হুমকিকে। IPCC-এর ষষ্ঠ প্রতিবেদন বলছে, ১৮৫০ সালের পর পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সামান্য বৃদ্ধিই হিমবাহ গলাচ্ছে, সমুদ্রের উচ্চতা বাড়াচ্ছে, ঋতুচক্র বদলে দিচ্ছে।
এই পরিবর্তনের মূল দায় শিল্পোন্নত দেশগুলোর। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিলে বিশ্বের ৬০ শতাংশের বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে। কিন্তু ক্ষতির বোঝা বইতে হয় বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, হাইতির মতো দেশগুলোকে।
জলবায়ু যুদ্ধ শুধু পরিবেশের নয়। এটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক। পানির অভাবে কৃষি ধ্বংস হলে খাদ্য দাঙ্গা হয়। উপকূল ডুবে গেলে জলবায়ু শরণার্থীর স্রোত তৈরি হয়। সম্পদের জন্য রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে সংঘাত বাধে।
২. বাংলাদেশ: জলবায়ু যুদ্ধের সম্মুখসারি
বিশ্ব ঝুঁকি সূচক ২০২৪ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিতে বিশ্বের সপ্তম দেশ। কারণ ভৌগোলিক। দেশের ৮০ শতাংশ এলাকা গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার ব-দ্বীপে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মাত্র ১ মিটার বাড়লে উপকূলের ১৭ শতাংশ এলাকা তলিয়ে যাবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৩ কোটি মানুষ।
প্রতিবছর গড়ে ৭ হাজার মানুষ মারা যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে। ১৯৭০ সালের ভোলা ঘূর্ণিঝড়ে ৫ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। ২০০৭ সালের সিডর, ২০০৯ সালের আইলা, ২০১৯ সালের বুলবুল, ২০২০ সালের আম্পান, ২০২৪ সালের রেমাল—প্রতিটি দুর্যোগ কেড়ে নিয়েছে প্রাণ, ধ্বংস করেছে হাজার কোটি টাকার সম্পদ।
উপকূলীয় ১৯ জেলায় লবণাক্ততা এখন প্রধান সমস্যা। কৃষিজমি অনুর্বর হচ্ছে, সুপেয় পানির অভাব দেখা দিয়েছে। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটে মিষ্টি পানির জন্য ৫-৭ কিলোমিটার হাঁটতে হয় নারীদের। এই “পানি সংকট” নারীর স্বাস্থ্য, শিশুর শিক্ষা, পরিবারের আয়—সবকিছুকে প্রভাবিত করছে।
নদীভাঙন আরেকটি বড় সংকট। প্রতিবছর পদ্মা, যমুনা, মেঘনায় ১০ হাজার হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। ফলে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে শহরে অভিবাসী হয়। ঢাকা, চট্টগ্রামের বস্তিতে এখন ৬০ শতাংশই জলবায়ু উদ্বাস্তু।
৩. সুন্দরবন: প্রাকৃতিক বাঁধ ও জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার
সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের গর্ব নয়, এটি বিশ্ব ঐতিহ্য। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এটি। ১০ হাজার বর্গকিলোমিটারের এই বন ৬০ শতাংশ বাংলাদেশে, ৪০ শতাংশ ভারতে।
সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঢাল। ঘূর্ণিঝড়ের সময় ১০-১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসকে এটি ৩-৫ ফুটে নামিয়ে আনে। এক হেক্টর ম্যানগ্রোভ বন বছরে ১০ টন কার্বন শোষণ করে। অর্থাৎ সুন্দরবন নিজেই একটি কার্বন সিঙ্ক।
কিন্তু সুন্দরবন আজ বিপন্ন। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় লবণাক্ততা ঢুকছে ভেতরে। সুন্দরী গাছ মরছে। বাঘ, হরিণ, কুমির, ডলফিন—সবাই হুমকিতে। UNESCO ২০১৯ সালে সুন্দরবনকে “বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্য” তালিকায় রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
সুন্দরবন শুধু বন নয়, এটি ৩৫ লাখ উপকূলবাসীর জীবিকা। মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ, নৌকা চালানো—সবকিছু এই বনের ওপর নির্ভরশীল। সুন্দরবন বাঁচলে উপকূল বাঁচবে, সুন্দরবন মরলে উপকূল উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
৪. নিঝুম দ্বীপ ও হাতিয়া: হারিয়ে যাওয়া দ্বীপের কান্না
নোয়াখালীর হাতিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত নিঝুম দ্বীপ একসময় ছিল হরিণের স্বর্গরাজ্য। ১৬ হাজার হেক্টরের এই দ্বীপে এখনো ২০ হাজারের বেশি চিত্রা হরিণ বাস করে। ম্যানগ্রোভ বন, কেওড়া, বাইন গাছে ঢাকা এই দ্বীপ জলবায়ু অভিযোজনের প্রাকৃতিক পরীক্ষাগার।
কিন্তু নিঝুম দ্বীপও টিকছে না। সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা আর ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে দ্বীপের আয়তন কমছে। ১৯৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দ্বীপের ২০ শতাংশ ভূমি সমুদ্রে বিলীন হয়েছে। লবণাক্ততা ঢুকে পড়ায় মিষ্টি পানির সংকট তীব্র। হরিণের খাদ্য সংকটও বাড়ছে।
হাতিয়া দ্বীপের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ১৯৮১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত হাতিয়ার ১৫ হাজার হেক্টর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। হাজার হাজার পরিবার উদ্বাস্তু হয়েছে। এখানে ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হলেও তা ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে, কারণ জোয়ারের চাপ আগের চেয়ে বেশি।
নিঝুম দ্বীপ ও হাতিয়া শুধু ভূমি নয়, এগুলো জীববৈচিত্র্যের আর্কাইভ। এখানে বিরল প্রজাতির লাল কাঁকড়া, গুইসাপ, সামুদ্রিক পাখি বাস করে। এই দ্বীপগুলো হারিয়ে গেলে বাংলাদেশ হারাবে তার প্রাকৃতিক ইতিহাসের একটি অংশ।
৫. অন্যান্য উপকূল ও জীববৈচিত্র্যের সংকট
সুন্দরবন ও নিঝুম দ্বীপ ছাড়াও বাংলাদেশের উপকূলে রয়েছে কক্সবাজার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, পটুয়াখালী, বরগুনার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন প্রবালদ্বীপের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, পর্যটকের চাপ, প্লাস্টিক দূষণে প্রবাল মারা যাচ্ছে। ২০১৯ সালের এক জরিপে দেখা যায়, সেন্টমার্টিনের ৭০ শতাংশ প্রবাল মৃত বা মৃতপ্রায়। প্রবাল মরলে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হয়, জেলেদের জীবিকা হুমকিতে পড়ে।
কুয়াকাটা ও পটুয়াখালীর উপকূলে ম্যানগ্রোভ বনায়ন চলছে। কিন্তু বাঁধ দুর্বল হওয়ায় জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। বরগুনার পাথরঘাটায় লবণাক্ততা এত বেড়েছে যে ধান চাষ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন মানুষ কাঁকড়া চাষ আর চিংড়ি ঘের ওপর নির্ভরশীল।
জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে বাংলাদেশ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে ৭৫০ প্রজাতির পাখি, ১৬০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১০ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫০ প্রজাতির মাছ আছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, বন ধ্বংস, দূষণের কারণে ১০টির বেশি প্রজাতি বিপন্ন। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, গাঙ্গেয় ডলফিন, গোলপাতা বাঘ—সবাই আজ সংকটে।
৬. বিশ্ব প্রেক্ষাপট: প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার ফারাক
২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে বিশ্ব নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রির নিচে রাখবেন এবং ১.৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার চেষ্টা করবেন। ২০০৯ সালের কোপেনহেগেন সম্মেলনে বলা হয়েছিল, ২০২০ সাল থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন দেওয়া হবে।
কিন্তু বাস্তবতা হতাশাজনক। ২০২০ সাল পর্যন্ত মাত্র ৮৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে, তাও বেশিরভাগ ঋণ আকারে। অনুদান মাত্র ২৮ শতাংশ। বাংলাদেশের মতো দেশগুলো জলবায়ু অভিযোজনে নিজেদের বাজেটের ৬-৭ শতাংশ খরচ করে, অথচ ধনী দেশগুলো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না।
COP28 দুবাই সম্মেলনে “লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড” গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য বড় অর্জন। কিন্তু ফান্ডে এখন পর্যন্ত মাত্র ৭০ মিলিয়ন ডলার জমা পড়েছে। বাংলাদেশের এক বছরের ঘূর্ণিঝড় ক্ষতির পরিমাণই ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত—বিশ্বের শীর্ষ তিন কার্বন নিঃসরণকারী দেশ এখনো কয়লা ব্যবহার কমায়নি। চীন ২০৬০ সালের আগে কার্বন নিউট্রাল হবে না, যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক পরিবর্তনে জলবায়ু নীতি বদলায়। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে।
৭. বাংলাদেশের প্রতিরোধ ও অভিযোজন কৌশল
বাংলাদেশ বসে নেই। বিশ্বে জলবায়ু অভিযোজনে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল।
প্রথমত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সাফল্য প্রশংসনীয়। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ৫ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। ২০২০ সালের আম্পানে মৃত্যু ২৬ জনে নেমে এসেছে। এর কারণ উপকূলজুড়ে ১৪ হাজার সাইক্লোন শেল্টার, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, এবং ৭৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের নেটওয়ার্ক।
দ্বিতীয়ত, “মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান” ২০৪১ সালের মধ্যে জলবায়ু সহনশীল, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু স্মার্ট কৃষি, উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয়ত, স্থানীয় উদ্ভাবন। লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি ধান-৬৭, ভাসমান বেডে সবজি চাষ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ—এসব প্রযুক্তি এখন গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে।
চতুর্থত, বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথমবারের মতো “ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম” এর নেতৃত্ব দিয়ে ৫৮টি ক্ষতিগ্রস্ত দেশকে একত্র করছে।
৮. জলবায়ু অর্থায়ন ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থ। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত জলবায়ু অভিযোজন ও ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন ৫৭০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু বৈদেশিক সাহায্য আসছে ধীর গতিতে।
এখানে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন ওঠে। যে দেশ কার্বন নিঃসরণ করেনি, সে কেন ঋণ নিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেবে? বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট—অনুদান চাই, ঋণ নয়। “দূষণকারী অর্থ দেবে” এই নীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কমাতে হবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের মাত্র ৪ শতাংশ আসে সৌর ও বায়ু থেকে। লক্ষ্য ২০৪১ সালে ৪০ শতাংশে নেওয়া।
৯. ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
জলবায়ু যুদ্ধে বাংলাদেশের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ:
প্রথম, জলবায়ু উদ্বাস্তু। ২০৫০ সালের মধ্যে ২ কোটি মানুষ উপকূল ছাড়তে বাধ্য হবে। তাদের জন্য শহরে পরিকল্পিত পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।
দ্বিতীয়, খাদ্য নিরাপত্তা। লবণাক্ততা ও খরার কারণে ধান উৎপাদন ১৫ শতাংশ কমতে পারে। তাই জলবায়ু সহনশীল কৃষি, সেচ ব্যবস্থাপনা, ফসল বীমা জরুরি।
তৃতীয়, জীববৈচিত্র্য রক্ষা। সুন্দরবন, নিঝুম দ্বীপ, সেন্টমার্টিনের মতো বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষা করতে কঠোর আইন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পর্যটন ব্যবস্থাপনা জরুরি।
একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজে জলবায়ু শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রতিটি নাগরিককে বুঝতে হবে, প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, গাছ লাগানো, বিদ্যুৎ সাশ্রয়—এসব ছোট কাজই যুদ্ধ জেতার অস্ত্র।
এই যুদ্ধে হারলে মানবসভ্যতা হারবে।জলবায়ু যুদ্ধে বাংলাদেশ একা নয়। মালদ্বীপ, ফিজি, সেনেগাল, হাইতি—সবাই একই নৌকার যাত্রী। এই যুদ্ধে জিততে হলে দরকার বৈশ্বিক সংহতি। ধনী দেশগুলোকে মনে রাখতে হবে, আজ বাংলাদেশ ডুবলে কাল মিয়ামি, আমস্টারডাম, সাংহাইও রক্ষা পাবে না।
বাংলাদেশের জন্য আশার কথা হলো, আমরা হার মানিনি। ঘূর্ণিঝড়ের পর আমরা আবার ঘর বাঁধি। বন্যার পর আবার ফসল ফলাই। এই সহনশীলতাই আমাদের শক্তি।
কিন্তু সহনশীলতারও সীমা আছে। বিশ্ব যদি এখনই কার্বন নিঃসরণ না কমায়, তবে ২১০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলের বড় অংশ মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। সুন্দরবন, নিঝুম দ্বীপ, হাতিয়া—সবই ইতিহাস হয়ে যাবে।
তাই সময় এসেছে সোচ্চার হওয়ার। জলবায়ু ন্যায়বিচার আদায়ের। কারণ এই যুদ্ধে হারলে শুধু বাংলাদেশ হারবে না, হারবে মানবসভ্যতা।
আমাদের সন্তানদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে আজই, এখনই। বিশ্ব পরিবেশ দিবস সফল হোক।

সরদার সেলিম রেজা। ছবিঃ সংগৃহীত
লেখক- সরদার সেলিম রেজা, কবি ও পরিবেশকর্মী, সভাপতি: বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র