পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে মাঠে মমতা, বিজেপি হটানোর নতুন কর্মসূচির ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৩ জুন- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন…
মেলবোর্ন, ২ জুন: বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিসংখ্যান। বিশেষ করে গণপিটুনি, অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার, সীমান্তে প্রাণহানি, হেফাজতে মৃত্যু এবং সাংবাদিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস (আইএসএইচআর)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হাসান হামিদ এক বিবৃতিতে বলেন, মে মাসে সংঘটিত ৬৯টি গণপিটুনির ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ৭১ জন গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর আগের মাসে একই ধরনের ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
তার মতে, গণপিটুনির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার সমষ্টি নয়; বরং এটি আইনের শাসনের প্রতি আস্থাহীনতা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার প্রতিফলন। চুরি, ধর্ষণচেষ্টা বা জমি সংক্রান্ত বিরোধের মতো অভিযোগের বিচার আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত, জনতার হাতে নয়।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও গণপিটুনির শিকার হচ্ছেন, যা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক অধিকারের ওপর জনতার চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
মে মাসে দেশের বিভিন্ন নদী, সড়ক, রেললাইন ও কৃষিজমি থেকে ৫৩টি অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য আরেকটি সতর্কবার্তা বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক সহিংসতার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। এপ্রিল মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা ছিল ৩০৩ জন, যা মে মাসে কমে ১৯৩ জনে দাঁড়ালেও তিনজন নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখনও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মে মাসে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে ১০ জন নিহত এবং ১৩ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যা আগের মাসের তুলনায় বেশি। একই সময়ে ভারত থেকে ১০টি ‘পুশ-ইন’ ঘটনারও তথ্য পাওয়া গেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড ও মানবিক নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
হেফাজতে সাত বন্দির মৃত্যু এবং মে মাসে ৩৪ জন সাংবাদিকের নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শারীরিক হামলা কিছুটা কমলেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য নতুন হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাসান হামিদের মতে, কিছু সূচকে উন্নতির লক্ষণ দেখা গেলেও সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এখনও আশাব্যঞ্জক নয়। আইনের শাসনের দুর্বলতা, দায়মুক্তির সংস্কৃতি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় পর্যাপ্ত তদন্তের অভাব এবং ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর দাবি নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এসব অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
– হাসান হামিদ
জাতীয় সহযোগী ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস (ISHR)
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au