পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে মাঠে মমতা, বিজেপি হটানোর নতুন কর্মসূচির ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৩ জুন- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন…
মেলবোর্ন, ২ জুন- অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে ২ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছেছে। দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, জন্মহার, মৃত্যুহার এবং অভিবাসনের ধারাবাহিক প্রবণতার ফলে গত এক বছরে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ বেড়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৫২ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের (এবিএস) পরিচালিত ‘অস্ট্রেলিয়ান পপুলেশন ক্লক’-এ জনসংখ্যা ২ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছানোর মাইলফলক স্পর্শ করে। সংস্থাটি নিয়মিতভাবে জন্ম, মৃত্যু এবং দেশটিতে আগমন ও বহির্গমনের তথ্য বিশ্লেষণ করে জনসংখ্যার হিসাব হালনাগাদ করে থাকে।
এবিএসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ৫৯ সেকেন্ডে একজন নতুন ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আসছেন। সামগ্রিকভাবে দেশটির জনসংখ্যা প্রতি ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে একজন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে একটি শিশুর জন্ম হচ্ছে এবং প্রতি ৩ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে একজন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। জন্ম ও অভিবাসনের হার মৃত্যুহারের তুলনায় বেশি হওয়ায় জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এবিএসের মডেল অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার মানুষের গড় বয়স দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক ৭২ বছর। দেশটিতে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
সরকারি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৮ সালের কোনো এক সময় অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা ২ কোটি ৯০ লাখে পৌঁছাবে। আর ২০৩১ সালের মধ্যে তা ৩ কোটির ঘর অতিক্রম করতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা ছিল ২ কোটি ৭৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪৬৪ জন। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ ৮৬ হাজার ২০৭ জনে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৭৪৩ জন।
এদিকে দেশটিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেন, ক্ষমতায় গেলে তার দল অভিবাসীর সংখ্যা অন্তত ৭০ শতাংশ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
বাজেট-পরবর্তী বক্তব্যে তিনি বলেন, আবাসন সংকট মোকাবিলায় অভিবাসনের সংখ্যা দেশের নতুন বাড়ি নির্মাণের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, যতসংখ্যক নতুন বাড়ি নির্মিত হবে, অভিবাসনের অনুমোদিত সংখ্যাও ততটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
অ্যাঙ্গাস টেইলরের দাবি, বর্তমান সরকার আবাসন, অবকাঠামো এবং জনসেবার সক্ষমতা বিবেচনা না করেই অভিবাসন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ফলে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও পর্যাপ্ত আবাসন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান হিসাবে অভিবাসনের সংখ্যা ৫ লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। নতুন নীতি কার্যকর হলে তা কমে বছরে প্রায় দেড় লাখে নেমে আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণের আগে কতগুলো নতুন বাড়ি নির্মিত হচ্ছে, তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে অভিবাসনের অবদান ক্রমেই বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে আবাসন সংকট, অবকাঠামোর ওপর চাপ এবং জনসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জনসংখ্যা ২ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছানোর এই মাইলফলক দেশটির অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের জন্য ইতিবাচক হলেও দ্রুত নগরায়ণ ও আবাসন ব্যবস্থাপনায় সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au