পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে মাঠে মমতা, বিজেপি হটানোর নতুন কর্মসূচির ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৩ জুন- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন…
মেলবোর্ন, ২ জুন- মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ভোলা-১ ও ভোলা-২ আসনের নয়বারের সাবেক সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে তার নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মা ও স্ত্রীর কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তৃতীয় ও শেষ জানাজা শেষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কোড়ালিয়া গ্রামে তার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির সামনে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্য, স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাবা আজাহার আলী, মা ফাতেমা খানম এবং স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
তোফায়েল আহমেদের জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে ভোলা সদর উপজেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে তার মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবতরণ করে। সেখান থেকে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে মরদেহ নিজ গ্রাম কোড়ালিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আরও দুটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, তোফায়েল আহমেদ শুধু একজন রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের নেতা। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অবদান ছিল অসামান্য। ভোলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতিতে তার ভূমিকা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্থানীয়দের অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু ভোলাবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার জানাজায় অংশ নিতে এবং শেষ বিদায়ে কবরে একমুঠো মাটি দিতে পেরে তারা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পক্ষাঘাতসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সিসিইউ এবং পরবর্তীতে আইসিইউতে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সহসভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার ভূমিকা তাকে জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি দীর্ঘ সময় সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা অধ্যায় পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত জন্মভূমি ভোলার মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন দেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তোফায়েল আহমেদ। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ ভোলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au