পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে মাঠে মমতা, বিজেপি হটানোর নতুন কর্মসূচির ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৩ জুন- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন…
মেলবোর্ন, ৩ জুন- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করে এক বছরের জন্য এ দায়িত্ব লাভ করেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি।
মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচনে খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পান ৯১ ভোট। বাকি ভোটগুলো অনুপস্থিত বা অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিজয় আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকারও প্রতিফলন ঘটেছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ প্রতি বছর পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে ঘূর্ণন পদ্ধতিতে বণ্টন করা হয়। এই গ্রুপগুলো হলো আফ্রিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক, পূর্ব ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য রাষ্ট্র। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ছিল।
শুরুতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা ছিল। পরে ফিলিস্তিনও প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে ভোটের আগমুহূর্তে ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতি পদে নির্বাচিত হলো বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। প্রায় ৪০ বছর পর আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধির নির্বাচিত হওয়া দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে গত ১৩ মে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের ‘পূর্ণকালীন সভাপতি’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের নয়, বরং জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হিসেবে কাজ করবেন।
সেই অনুষ্ঠানে তিনি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য ছয় দফা অগ্রাধিকার পরিকল্পনাও উপস্থাপন করেন। এতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গতি আনা, শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মতবিনিময় সভার প্রশ্নোত্তর পর্বে অ্যান্ডোরার প্রতিনিধি জানতে চান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে কি না। জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, পদত্যাগ করার প্রয়োজন হবে না। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে এ দায়িত্ব পালনের জন্য এক বছরের বিশেষ অবকাশ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। তার ভাষায়, পদত্যাগ একমাত্র পথ নয়; প্রয়োজনে তিনি দায়িত্ব থেকে ছুটিতে যেতে পারেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয়, বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং জাতিসংঘের কার্যক্রমে নেতৃত্ব প্রদান এই পদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, জলবায়ু সংকট, সংঘাত, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে এই পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধির নির্বাচিত হওয়া দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও কূটনৈতিক সক্ষমতার একটি বড় স্বীকৃতি। বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু একটি কূটনৈতিক অর্জনই নয়, বরং আন্তর্জাতিক নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আরও সক্রিয় ও প্রভাবশালী ভূমিকা রাখার সুযোগও সৃষ্টি করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au