ইরানি হামলায় সব ফ্লাইট বাতিল করল ইজিপ্টএয়ার
মেলবোর্ন, ৪ জুন- কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দুই দিনের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে মিসরের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা…
মেলবোর্ন, ৩ জুন- ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা, শোকযাত্রা এবং দাফনকে কেন্দ্র করে তিন দিনের ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রাজধানী তেহরানসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে এ কর্মসূচি পালিত হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে প্রায় দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই তেহরানে নিজ বাসভবনে এক যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ইরান সে সময় হামলাটিকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে।
খামেনির মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রায় চার দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনি দেশটির পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা কৌশল এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটে।
ইসলামি রীতি অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যেই দাফন সম্পন্ন করা হয়। তবে খামেনির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। যুদ্ধাবস্থা, নিরাপত্তা উদ্বেগ, বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের প্রস্তুতির কারণে তার জানাজা ও দাফন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় আয়োজন সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) তেহরানের উপ-মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলি-জাদেহ জানান, তিন দিনের কর্মসূচির আওতায় রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি ধর্মীয় নগরী কোম এবং মাশহাদেও ব্যাপক শোকযাত্রা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে তিনি বলেন, তেহরানে অনুষ্ঠিতব্য মূল শেষকৃত্য অনুষ্ঠান অন্তত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলবে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানী ও অন্যান্য শহরে মানুষের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশ থেকে লাখো মানুষকে আনার জন্য পরিবহন ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, খামেনির দাফন অনুষ্ঠান জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২১ জুন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান শুধু একটি ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী জাতীয় ঐক্যের প্রদর্শন হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানি নেতৃত্ব আশা করছে, বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে তারা দেশটির অভ্যন্তরীণ সংহতি এবং বিদেশি চাপের বিরুদ্ধে জনগণের অবস্থান তুলে ধরতে পারবে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রায় ৩৭ বছর ধরে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালনকালে তিনি ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নীতিনির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তার মৃত্যু ইরানের জন্য একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির লাখো সমর্থক ও অনুসারী ইতোমধ্যে বিভিন্ন শহরে শোকসভা, দোয়া মাহফিল এবং স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন শুরু করেছেন। আসন্ন রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
সূত্রঃ আনাদোলু এজেন্সি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au